
ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের ককপিটে হামলার ঘটনায় বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফেডারেল অ্যাটর্নি জেনারেল হামাদ সাইফ আল শামসির বরাতে গত ১০ অক্টোবর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানায়, ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামি নামক এক সহ-পাইলট পরিকল্পিতভাবে ওই উড়োজাহাজটি ছিনতাই করে ইসরায়েলের বিমানবন্দরে বিধ্বস্ত করার পরিকল্পনা করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ৯/১১ হামলার আদলে চালানো এই আত্মঘাতী পরিকল্পনা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি। তদন্ত বলছে, তিনি একাই এই ষড়যন্ত্রের সাথে যুক্ত ছিলেন, তবে এর পেছনে আরও কেউ আছে কি না তা এখনো যাচাই করা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সন্দেহভাজন ২৯ বছর বয়সী ওমানি নাগরিক হাম্মাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত সন্ত্রাসী হামলার আদলে আত্মঘাতী হামলার পরিকল্পনা করার অভিযোগ উঠেছে। তবে তাঁর কোনো সহযোগী ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ঘটনাটি ঘটে গত ৩০ সেপ্টেম্বর দুবাই থেকে তেল আবিবগামী এফজেড১০৭৩ ফ্লাইটে। ওই সময় উড়োজাহাজটিতে ১৭৪ জন যাত্রী ছিলেন, যাদের অধিকাংশই ছিলেন ইসরায়েলি নাগরিক। অভিযোগ রয়েছে, উড্ডয়নের পর সহ-পাইলট জরুরি কুঠার ব্যবহার করে কাপ্তেনের ওপর অতর্কিত আক্রমণ চালান। এতে কাপ্তেন গুরুতর আহত হলেও উপস্থিত কেবিন ক্রু, অপর পাইলট এবং যাত্রীদের সাহসী তৎপরতায় সন্দেহভাজনকে কাবু করা সম্ভব হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর উড়োজাহাজটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করানো হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, ২০১৭ সালে মেলবোর্নে পড়াশোনাকালীন সময়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি চরমপন্থী মতাদর্শে দীক্ষিত হন। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি আগে দুবার ইসরায়েল ভ্রমণ করেছিলেন এবং বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর সম্পর্কে ধারণা নিয়েছিলেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্লাইদুবাইয়ের কর্মী নিয়োগ বা নিরাপত্তা যাচাই প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ত্রুটি বা গাফিলতি পাওয়া যায়নি। এরপরও নিরাপত্তার স্বার্থে ফ্লাইদুবাই পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলগামী সব ফ্লাইট স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছে। ২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে পড়াশোনার সময় তিনি চরমপন্থী মতাদর্শের সংস্পর্শে এসেছিলেন বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটিতে ফ্লাইট পরিচালনাকারী বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় পর্যালোচনার কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন। আকাশে যাত্রীদের সুরক্ষা এবং ককপিট নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সন্দেহভাজনের বিরুদ্ধে আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তদন্তের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য দেশবাসী ও আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন আমিরাত কর্তৃপক্ষের দিকে।