
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় নতুন করে এক ভারতীয় নাগরিক মারা যাওয়ায় এই সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে রোববার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরটিতে নতুন করে হামলা চালানো হলে বেশ কয়েকজন যাত্রী ও কর্মী আহত হন। এর ফলে সাময়িকভাবে বিমান চলাচল বন্ধ রেখে সবাইকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। গতকালের ভয়াবহ হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ জনে, যখন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক ভারতীয় নাগরিক প্রাণ হারান। এর ফলে বিমানবন্দরে ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া হয়।
এর আগে গত শনিবার ১০ অক্টোবর রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথি বাহিনীর চালানো হামলায় ১২ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। এ নিয়ে মোট নিহতের সংখ্যা ১৩ জনে পৌঁছাল, যার মধ্যে ৪ জন সৌদি, ২ জন বাংলাদেশি, ১ জন মার্কিন নাগরিক এবং জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের নাগরিক রয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ।
অন্যদিকে ইয়েমেনের অভ্যন্তরে হুথি বাহিনী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর 'তাইজ' (Taiz) এবং লোহিত সাগরের কৌশলগত বাব আল-মানদে প্রণালীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে দুই পক্ষ ভারী অস্ত্র নিয়ে তীব্র যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। অন্যদেিকে, ইয়েমেনের রণক্ষেত্রে আনসারুল্লাহ হুথি বাহিনী এবং সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকারের সেনাবাহিনীর মধ্যে কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তাইজ (Taiz) শহরের নিয়ন্ত্রণ নিতে বর্তমানে রক্তক্ষয়ী ও তুমুল যুদ্ধ চলছে।
হুথিদের এই ধারাবাহিক আক্রমণের জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানায় অবস্থিত হুথি ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে সর্বাত্মক অভিযান শুরু করেছে। তারা ১০০টিরও বেশি যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ব্যাপক বিমান হামলা চালাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, রিয়াদ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অসামরিক বিমান চলাচলাকে গভীর হুমকির মুখে ফেলেছে।