
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ফ্লাইদুবাইয়ের দুই মালদ্বীপের পাইলটকে আটকের ঘটনা ঘটেছে। মূলত দুবাই থেকে তেল আবিবগামী একটি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ ছিনতাই করে তা বিধ্বস্ত করার যে কথিত ষড়যন্ত্রের তদন্ত চলছে, তার অংশ হিসেবেই তাদের আটক করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আটককৃতদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ বা তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। হিন্দুস্তান টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ অক্টোবর তাদের আটক করা হয় এবং পরবর্তীকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত মালদ্বীপের দূতাবাসের মাধ্যমে তাদের পরিবারের কাছে এই আটকের সংবাদটি আনুষ্ঠানিকভাবে পৌঁছে দেওয়া হয়। যদিও এ বিষয়ে মালদ্বীপ সরকার এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
এই ঘটনার তদন্তসূত্রপাত হয় গত ৩০ সেপ্টেম্বর। ঐদিন ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট এফজেড১০৭৩ মোট ১৭৪ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে দুবাই থেকে তেল আবিবের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। যাত্রাপথে ওমানের সহকারী পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে কুঠার ও ছুরি দিয়ে আঘাতের গুরুতর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, ঐ সহকারী পাইলটের মূল উদ্দেশ্য ছিল উড়োজাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেটিতে সন্ত্রাসী হামলা চালানো এবং তা বিধ্বস্ত করা। ক্যাপ্টেন মাচ্ছার গুরুতর আহত হওয়ার পরও সাহসিকতার সঙ্গে হামলা প্রতিহত করেন এবং ককপিটের দরজা খুলে ফেলেন। পরবর্তীকালে অন্য ক্রু সদস্য ও যাত্রীদের সহায়তায় হামলাকারী পাইলটকে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। পরিস্থিতি সামাল দিয়ে উড়োজাহাজটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ অভিযুক্ত ২৯ বছর বয়সী পাইলট হাম্মাম আল-হাম্মামিকে হেফাজতে নিয়েছে। তদন্তের সূত্রপাত গত ৩০ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনা থেকে। উড়োজাহাজটিতে যাত্রী ও ক্রু মিলিয়ে ১৭৪ জন ছিলেন।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই এবং মালদ্বীপের সংবাদপত্র মিহারুর প্রতিবেদন অনুসারে, আটক দুই পাইলটের সঙ্গে অভিযুক্ত সহকারী পাইলটের কর্মক্ষেত্রে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনকি তাদের একই ভবনে বসবাসের তথ্যও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তবে এই তথ্যের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কী প্রমাণ রয়েছে, তা এখনো অস্পষ্ট। মালদ্বীপের এডিশন ডট এমভির তথ্য মতে, ফ্লাইদুবাইয়ে কর্মরত মোট ছয়জন মালদ্বীপের পাইলটের মধ্যে এই দুজন রয়েছেন। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে গোটা প্রক্রিয়াটি।