
বলিউড তারকা সালমান খানের প্রতি নিজের শৈশবের তুমুল অনুরাগের স্মৃতি তুলে ধরেছেন ছোটপর্দার অভিনেত্রী মেহবুবা মাহনূর চাঁদনী। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনেতার সঙ্গে নিজের দুটি পুরোনো ছবি প্রকাশ করে সেই বিশেষ মুহূর্তের কথা ভক্তদের জানান তিনি। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ চলচ্চিত্রটি দেখার পর থেকেই মূলত সালমান খানের অনুরাগী হয়ে উঠেছিলেন চাঁদনী। সে সময় তার পড়ার টেবিল ও ঘরের দরজায় ঝুলত প্রিয় অভিনেতার ছবি।
স্মৃতিচারণ করে চাঁদনী জানান, ১৯৯৭ বা ১৯৯৮ সালের দিকে সালমান খান বাংলাদেশে আসবেন শুনে ভীষণ উত্তেজিত হয়ে টিকিট কেটেছিলেন তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আয়োজনটি বাতিল হয়ে যায়। এরপর ঢাকা শেরাটন হোটেলে (বর্তমান ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা) অভিনেতার অবস্থানের খবর পেয়ে বুদ্ধি খাটিয়ে সেখানে পৌঁছে যান তিনি। সে সময় তার সঙ্গে ছিলেন তার মা, বান্ধবী সাদিয়া ইসলাম এবং আলোকচিত্রী মহসিন। অনুমতি নিয়ে ঘরে ঢুকে তারা দেখেন সালমান খান ঘরে একাই অবস্থান করছিলেন। নব্বইয়ের দশকের শেষের দিকে অর্থাৎ ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৮ সালের দিকে বাংলাদেশে সালমান খানের আসার কথা শুনেই উত্তেজনায় টিকিট কেটেছিলেন চাঁদনী। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি বাতিল হওয়ায় তার মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল। এরপর নানারকম কৌশলে সেখানে যাওয়ার সুযোগ করে নেন তিনি। রুমের ঠিকানা জোগাড় করে ভেতরে গিয়ে দেখেন সালমান খান একা রয়েছেন।
তখনো স্কুলে পড়েন চাঁদনী। নিজের নাম পরিচয় জানানোর পর সালমান খান তাকে একটি অটোগ্রাফ দেন, যেখানে লেখা ছিল ‘চাঁদনী, ফর ইয়োর সালমান’। প্রিয় তারকার লাজুক চাহনি আর কথা বলার ভঙ্গি চাঁদনীর মনে গভীরভাবে দাগ কেটে যায়। সেই সাক্ষাতের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন, দেখা করার পুরো সময়টাই তিনি অভিনেতার হাত ধরে রেখেছিলেন। সালমান তার নাম জানতে চেয়ে অটোগ্রাফে তা লিখে দিয়েছিলেন।
সেই সাক্ষাতের পর কিশোরী মনের এক দূরন্ত আবেগের কথা প্রকাশ করে চাঁদনী বলেন, প্রিয় তারকার সঙ্গে করমর্দন করার পর টানা সাত দিন তিনি সেই হাত ধোননি। ভক্ত হিসেবে এটি তার শৈশবের এক মধুর পাগলামি ছিল উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, এই ঘটনাটি আজও তার জীবনের অন্যতম সেরা ও মধুর অভিজ্ঞতা হয়ে আছে। পরে বাসায় এসে সাত দিন ওই হাতই ধুইনি। এটা আসলে কিশোর মনের একটা পাগলামি ছিল।