
দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার আট সদস্যের একটি নতুন কমিটি গঠন করেছে। গত ১৩ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এ বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা, বিভিন্ন সংস্থার কাজের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ দেওয়াই এই কমিটির মূল লক্ষ্য। কমিটিকে দুই মাসের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া কমিটির অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বিমানবাহিনী প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক। মন্ত্রিপরিষদ সচিব কমিটির সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে কমিটি নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করতে পারবে এবং প্রয়োজনে নিয়মিত সভার আয়োজন করবে।
বিমানবন্দরের প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে যাত্রী ও পণ্য তল্লাশি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সুরক্ষা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোতে একাধিক সংস্থার দায়িত্ব থাকে। এসব কার্যক্রমে সমন্বয়হীনতা থাকলে নিরাপত্তায় ঝুঁকি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সরকার গঠিত এই নতুন কমিটি এসব চ্যালেঞ্জ পর্যালোচনা করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের পথ দেখাবে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই কমিটিকে সাচিবিক সহায়তা প্রদান করবে।
সম্প্রতি দেশের বিমানবন্দরগুলোর অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে যাত্রী ও উড়োজাহাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। আগামী দুই মাসের মধ্যে কমিটি তাদের প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং এই সুপারিশের ভিত্তিতেই সরকার পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা উন্নয়নের পুরো বিষয়টি এখন কমিটির প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করছে।