
গাইবান্ধার সাদুল্ল্যাপুর উপজেলায় পৈত্রিক জমিজমা ও পারিবারিক কলহের জেরে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত মো. জসিজল হক ওরফে ডিপটিকে (৬৫) গ্রেফতার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
গত শনিবার ভোরে পলাশবাড়ী উপজেলার নয়নপুর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ডিপটি সাদুল্ল্যাপুর থানার ইসবপুর গ্রামের মৃত আজিম উদ্দিনের ছেলে।
আজ রোববার দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন এসআরবি-১৩ এর মিডিয়া বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) সিনিয়র সহকারী পরিচালক মুহম্মদ মনিরুজ্জামান।
মামলার বরাদ দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে পৈত্রিক জমিজমা ও পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মোছা. শাপলা খাতুন (৩০) ও নিহত আজিজুল হকের পরিবারের সঙ্গে অভিযুক্ত ডিপটির বিরোধ চলে আসছিল।
এরই ধারাবাহিক গত ১৪ অক্টোবর দুপুরে অভিযুক্তরা বাঁশের লাঠি ও ইটসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শাপলার বসতবাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করে জোরপূর্বক গোয়ালঘর নির্মাণ শুরু করে। এ সময় শাপলা বেগম ও নিহত আজিজুল হক বাধা দিলে প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের ওপর নৃশংস হামলা চালায়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ অক্টোবর রাতে আজিজুল হক মারা যান। এ ঘটনায় নিহত আজিজুলের স্ত্রী বাদী হয়ে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকেই মামলার অন্যান্য আসামিরা গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দেন।
চাঞ্চল্যকর এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে আসামিদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে এসআরবি। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার ভোরে এসআরবি-১৩, সিপিসি-৩, গাইবান্ধা ক্যাম্পের একটি চৌকস দল উপজেলার নয়নপুর গ্রামে মো. তাছলিমুল হাসানের বাড়িতে অভিযান চালায়। অভিযানে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. জসিজল হক ওরফে ডিপটি আটক হন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতার আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।