
ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবে বিমান চলাচল ব্যবস্থা বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং বিমানবন্দরগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বিশেষ করে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিস্থিতি বেশ অস্থিতিশীল। এ অবস্থায় ধনী যাত্রী, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং বহুজাতিক কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বিকল্প পথে দেশ ছাড়ার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে, যার ফলে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজ বা প্রাইভেট জেটের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
এভিয়েশন শিল্পের তথ্য অনুযায়ী, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং উড়োজাহাজের সীমিত প্রাপ্যতার কারণে অনেক রুটে ভাড়ার পরিমাণ ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। লাক্স জেটস নামের একটি ভাড়াদাতা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যমতে, সৌদি আরবের আল-কাসিম বিমানবন্দর থেকে সুইজারল্যান্ডের জেনেভা পর্যন্ত ১৪ আসনের একটি বোম্বার্ডিয়ার জেট ব্যবহারের খরচ এক সপ্তাহে ৬০ হাজার ইউরো থেকে বেড়ে ৯৪ হাজার ইউরোয় দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ, মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে ভাড়া প্রায় ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ বা ৩৪ হাজার ইউরো বেড়েছে। এছাড়া ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যের ফ্লাইটের ভাড়া দেড় লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত ছাড়িয়ে গেছে। নিকটবর্তী গন্তব্য যেমন সংযুক্ত আরব আমিরাতে যাতায়াতের জন্য এখন ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো কাছের গন্তব্যে যেতে ৩০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে লুফথানসা, ইন্ডিগো এবং এয়ার ইন্ডিয়ার মতো আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থাগুলো রিয়াদগামী ফ্লাইট পরিচালনায় কড়াকড়ি আরোপ বা স্থগিতাদেশ দিয়েছে। যদিও বিমানবন্দরগুলো এখন সীমিত পরিসরে চালু হয়েছে, তবুও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। সংঘাতপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকি বাড়ায় বিমা প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত যুদ্ধঝুঁকি প্রিমিয়াম আরোপ করছে, যা ভাড়ার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। এছাড়া উড়োজাহাজের অবস্থান পরিবর্তন এবং বিকল্প বিমানবন্দর ব্যবহারের বাড়তি খরচও ভাড়ার অংকে প্রতিফলিত হচ্ছে।
বর্তমানে বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জরুরি বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। তবে সৌদি আরব থেকে বিদেশি নাগরিকদের ব্যাপকহারে দেশত্যাগের কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে বিমান চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক হওয়া এবং নিরাপত্তাঝুঁকি কতটা দ্রুত হ্রাস পায় তার ওপর। যদি এই অনিশ্চয়তা দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের বাড়তি ভাড়া ও বিকল্প পথে যাতায়াতের চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।