
রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর সফরকেন্দ্রিক একটি ফেসবুক পোস্টে স্নাইপার দিয়ে গুলির উসকানিমূলক মন্তব্য করার অভিযোগে আবু বকর সিদ্দিক নামের এক যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শুক্রবার ঢাকা মহানগর হাকিম মেহেদী হাসান শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মো. ইয়াছিন পাইক আসামিকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানিয়েছিলেন। রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘স্নাইপার’ দিয়ে গুলি করার ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে গ্রেপ্তার আবু বকর সিদ্দিককে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ঢাকার একটি আদালত এ আদেশ দেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অক্টোবর।
ডিবি পুলিশের সাইবার ও বিশেষ অপরাধ বিভাগের উত্তর অঞ্চলের অর্গানাইজড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম নিয়মিত নজরদারির সময় ফেসবুকে উসকানিমূলক একটি পোস্ট শনাক্ত করে। ‘দ্য বিউটি অব রাজশাহী’ নামের ফেসবুক গ্রুপে ‘মাইশা আঞ্জুম’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) বাসের ছবিসহ পোস্ট দেওয়া হয়েছিল।
ওই পোস্টের নিচে ‘এমডি আবু বকর সিদ্দিক’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মন্তব্য করা হয়, ‘ইস একটা বড় সুযোগ ছিলো, শুধু একটা স্নাইপার এর অভাব ছিলো’।
প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করার পর ডিবি পুলিশ এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশ বুধবার বিকেল ৫টার দিকে পবা থানার ঘোল হাড়িয়া দক্ষিণপাড়া এলাকায় যৌথ অভিযান চালায়। ওই বাসা থেকে আবু বকর সিদ্দিক এবং তার বাবা মো. আয়নাল হককে আটক করা হয়। অভিযানের সময় আবু বকরের ব্যবহৃত স্মার্টফোনটি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে ওই মন্তব্য করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার বাবার সম্পৃক্ততা না থাকায় তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। মন্তব্যটি নজরে আসার পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশের অখণ্ডতা ও জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার ষড়যন্ত্র এবং রাষ্ট্রপ্রধানের ওপর হামলার উসকানির পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা যাচাই করা জরুরি। এছাড়া তদন্তের স্বার্থে আসামিকে জামিন না দেওয়ার আবেদন জানিয়ে বলা হয়েছে, মুক্ত থাকলে তিনি আলামত নষ্ট করতে পারেন বা আত্মগোপনে চলে যেতে পারেন। এই ঘটনায় ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মানিক হোসেন বাদী হয়ে রাজধানীর রমনা মডেল থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলাটি দায়ের করেছেন।