
সমুদ্রের কোল ঘেঁষে তৈরি রানওয়ে ও অত্যাধুনিক যাত্রী টার্মিনাল নিয়ে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে কক্সবাজার বিমানবন্দর। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই সম্প্রসারিত বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে কক্সবাজারকে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তের সঙ্গে সরাসরি আকাশপথে যুক্ত করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দাপ্তরিক তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার বিমানবন্দরের রানওয়ে সম্প্রসারণ করে ১০ হাজার ৭০০ ফুটে উন্নীত করা হয়েছে, যা বড় আকারের উড়োজাহাজ চলাচলের উপযুক্ত। পাশাপাশি প্রায় ১৮ হাজার বর্গমিটার আয়তনের নতুন যাত্রী টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে চেক-ইন কাউন্টার, ইমিগ্রেশন, উন্নত স্ক্যানিং ব্যবস্থা, লাগেজ ও কনভেয়ার বেল্ট, লিফট, এসকেলেটর এবং বোর্ডিং ব্রিজের মতো আধুনিক সব সুবিধা রাখা হয়েছে।
কক্সবাজার আন্তর্জাতিক যাত্রী টার্মিনালের যান্ত্রিক প্রকৌশলী মো. নূর নবী জানান, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইসিএও) মানদণ্ড মেনেই যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা তত্ত্বাবধায়ক মো. সিফাত উল্লাহর ভাষ্যমতে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আদলে এখানে অত্যাধুনিক লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও এক্স-রে স্ক্যানার বসানো হয়েছে। এছাড়া বহির্গমন অংশে চারটি এবং আগমন অংশে ছয়টি ইমিগ্রেশন কাউন্টারসহ সিসিটিভি নেটওয়ার্ক ও শুল্কমুক্ত দোকানের ব্যবস্থাও রয়েছে।
এই উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকার মতে, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল শুরু হলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় গতি আসবে। এর ফলে শুঁটকি ও তাজা শাকসবজির মতো স্থানীয় পণ্য চট্টগ্রাম হয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে রপ্তানি করা সহজ হবে। একই সঙ্গে কক্সবাজার নাগরিক ফোরামের সভাপতি আ.ন.ম. হেলাল উদ্দিন মনে করেন, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ও পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার পর্যটন মানচিত্রে কক্সবাজারের গুরুত্ব বহুগুণ বেড়ে যাবে।
প্রকল্পটি সফল হলে বিদেশি পর্যটক ও বিনিয়োগকারীরা সরাসরি কক্সবাজারে যাতায়াত করতে পারবেন, যা হোটেল, রিসোর্ট ও পরিবহন খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘমেয়াদী সুফল পেতে নিয়মিত বিমানসেবা ও কার্যকর পর্যটন অবকাঠামো বজায় রাখা জরুরি।