বগুড়ার মোকামতলায় আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জমিতে প্রবেশ, গালিগালাজ, গাছ উপড়ে ফেলা ও প্রাণনাশের আশঙ্কা সৃষ্টি করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন মোছা. রওশন আরা বেগম নামে এক নারী। এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) বেলা ১১টায় মোকামতলা মডেল প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন রওশন আরা বেগম। তিনি বগুড়ার মোকামতলার লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আব্দুল হালিমের স্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রওশন আরা বেগম জানান, ১৯৯৮ সালে মোকামতলার লক্ষীপুর মৌজায় ১৯৩/১৯৪ নম্বর দাগে আব্দুল মান্নানের কাছ থেকে প্রথমে পাঁচ শতক এবং পরে একই দাগে জাহিদুলের কাছ থেকে আরও চার শতক জমি কেনেন তিনি। মোট নয় শতক জমি কেনার পর সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নিজের নামে নামজারি করেন এবং নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে আসছেন। পরে ওই জমিতে পাঁচতলা ভবনের ভিত্তি দিয়ে দোতলা বাড়ি নির্মাণ করে পরিবারসহ বসবাস শুরু করেন।
রওশন আরার অভিযোগ, প্রায় ছয়-সাত মাস আগে প্রতিবেশী পিন্টু মিয়া, রিপন মিয়া, শিপন মিয়া, ইমদাদুল হক ও শুভ তাঁর বাড়ির প্রাচীর নির্মাণকাজে বাধা দেন। একই সঙ্গে তাঁরা ওই জমি নিজেদের বলে দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করেন। এ পরিস্থিতিতে তিনি প্রতিকার চেয়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ সিভিল জজ আদালতে ২৮৭/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও জানান, মামলার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২০ জুলাই আদালত নালিশি সম্পত্তিতে তাঁর শান্তিপূর্ণ ভোগদখলে বাধা সৃষ্টি, বেআইনিভাবে প্রবেশ করে বেদখল করা, জমির অবস্থা বা প্রকৃতি পরিবর্তন এবং জোরপূর্বক স্থাপনা নির্মাণের বিরুদ্ধে অস্থায়ী ও অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা দেন। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে শিবগঞ্জ থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তবে আদালতের ওই আদেশের পরও গত ২২ অক্টোবর পিন্টু মিয়া ও রিপন মিয়া জমিতে অনধিকার প্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করেন রওশন আরা। তাঁর ভাষ্য, এ সময় তাঁকে গালিগালাজ করা হয় এবং আদালতে মামলা দায়ের করার কারণে হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে বাড়ির আঙিনায় থাকা কয়েকটি গাছ উপড়ে ফেলে নষ্ট করা হয়।
রওশন আরা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় গোপনে তাঁর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য প্রচারের মাধ্যমে তাঁর সম্মানহানি করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রওশন আরা বেগম তাঁর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, আদালতের আদেশের যথাযথ বাস্তবায়ন এবং নিজের ও পরিবারের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযুক্ত রিপন মিয়া বলেন, শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে আদালত উভয় পক্ষের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। এরপরও তাঁরা ওই জমিতে গাছ লাগিয়েছেন। এ কারণে তাঁরা গাছগুলো উপড়ে ফেলেছেন। রওশন আরা তাঁদের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেও দাবি করেন রিপন মিয়া।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুজ্জামান বলেন, “ওই নারী এখনো থানায় এসে কোনো অভিযোগ করেননি। তিনি অভিযোগ নিয়ে এলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”