
বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক শেষে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
বৈঠকের আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে সানায়ে তাকাইচি স্বাগত জানান এবং তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করেন। এর মাধ্যমে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর জাপান যেসব দেশ বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েছিল, তাদের মধ্যে অন্যতম। গত পাঁচ দশকে জাপান বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণে প্রধান অংশীদার হিসেবে কাজ করে আসছে। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর জাপান স্বীকৃতিদানকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি। যৌথ বিবৃতিতে বৈঠকের ফলাফল ও ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, বাণিজ্য এবং গভীর সমুদ্রবন্দরসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দুই দেশ ঐকমত্যে পৌঁছেছে। তারেক রহমান জানান, সফরকালে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও মজবুত করতে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে।
জাপানের ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাপানের অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক ও অংশীদারত্বের শক্তিতে রূপান্তর করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক অভাবনীয়ভাবে সুদৃঢ় হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কৌশলগত অংশীদারত্বের এই ঘোষণা দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথভাবে গুরুত্ব দিয়েছেন। আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে আগামীতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে নেতারা মন্তব্য করেন। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর দুই দেশের বন্ধুত্ব প্রতিষ্ঠিত।