
নিউজ ডেস্ক
অসাধু ব্যবসায়ীদের করা সিন্ডিকেট ভাঙতে চলতি রমজানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকে ‘তরমুজ বয়কটের’ ডাক দিয়েছে সাধারণ মানুষ।
উল্লেখ্য, এবার মৌসুমের শুরুতে ১০০ টাকা কেজি তরমুজ বিক্রি শুরু হয়, অথচ ব্যবসায়ীরা পিস হিসেবে অনেক কম দামে এই তরমুজ কিনে আনছিলেন। এর প্রতিবাদে তরমুজ বয়কটের ডাক দেওয়ার ফলে এখন অর্ধেক দামেও তরমুজ বিক্রির ক্রেতা পাচ্ছে না বিক্রেতারা।
এবার ফেসবুকে গরুর মাংস বয়কটের ডাক দিয়েছেন বহু মানুষ। কারণ, রোজার শুরু থেকেই গরুর মাংসের দাম শুধু বেড়েই চলেছে। সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও তা কোনো ব্যবসায়ী মানছেন না।
রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, ৭৫০-৭৮০ টাকায় গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে। গত ১৫ মার্চ গরুর মাংসের দাম ৬৬৪ টাকা বেঁধে দেয় সরকার। কিন্তু মাংস ব্যবসায়ীরা এর কোনো পাত্তাই দিচ্ছেন না। এর বিরুদ্ধেই এবার সাধারণ জনগণ সোচ্চার হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের বিভিন্ন গ্রুপ এবং পেজে নেটিজেনরা গরুর মাংস বয়কটের ডাক দিয়েছেন। এছাড়া হাজারো বাংলাদেশি ফেসবুক ব্যবহারকারী তাদের ফেসবুকের টাইমলাইনে বিভিন্ন পোস্ট শেয়ার করছেন। যা রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া একটি পোস্ট তুলে ধরা হলো- ‘তরমুজের ভাব বেড়েছিল আমাদের আমজনতার বয়কটে তার দাম এখন হাতের নাগালে। এভাবে গরুর মাংসও খাওয়া বাদ দিন, বয়কট করুন ১ বা ২ বা ৩ মাস। দেখবেন, সেটাও হাতের নাগালে চলে আসবে।
ক্রেতা না কিনলে দাম বাড়িয়ে কয়দিন কাটা গরুর মাংস রাখবে ফ্রিজে! কম দামে ক্রেতা না কিনলে কত দিন চড়া দাম হাঁকাবে! ক্রেতাই যদি না থাকে কীসের সিন্ডিকেট! আমরা সব চাইলেই পারি! লাগবে শুধু একতা! চলেন, তরমুজের পরে এবারে গরুর মাংসের দাম কমাই।’
ড. সুলতানা রাজিয়া নামের এক নারী লিখেছেন- ‘তরমুজের ভাব বেড়েছিল কিন্তু আমাদের আম জনতার বয়কটে তার দাম এখন হাতের নাগালে।
এভাবে গরুর মাংসও খাওয়া আসেন বাদ দি, বয়কট করি ১/২ মাস। দেখবেন, সেটাও হাতের নাগালে চলে আসবে। আমরা না কিনলে দাম বাড়িয়ে কয়দিন কাটা গরুর মাংস রাখবে ফ্রিজে?’
ভাইরাল হওয়া আরেকটি পোস্ট হলো- ‘আমি গরুর মাংস কিনলাম। বলল, দেশের মানুষ ভাত পায় না, গরুর মাংস কেনে। গরুর মাংসের মেলা দাম, আসুন গরুর মাংস বয়কট করি।’
সুমন বাঙালি নামের আরেক যুবক লিখেছেন, ‘গরুর মাংস বয়কট কার্যক্রম সফল করতে হবে। তাহলে গরুর মাংসের দামও কমবে বলে আশা করা যায়। দয়া করে কিছুদিন গরুর মাংস কিনা বন্ধ রাখুন, তরমুজ এর মতোই সুফল পাবেন। কিছুদিন গরুর মাংস না খেলে কিছুই হবে না।’
মো. আতিকুল ইসলাম নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘মাত্র ২মাসের জন্য গরুর মাংস খাওয়া ছেড়ে দিন। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দাওয়াতি অনুষ্ঠানে গরুর মাংসের বিকল্প রেসিপি বা ভিন্ন আইটেমের খাবার পরিবেশন করুন। গরুর মাংস খাদ্য তালিকা থেকে দুমাসের জন্য একেবারে বাদ দিন। যে অতিথি গরুর মাংস ছাড়া খাবার খেতে চায় না প্রয়োজনে তাকেও বয়কট করুন।’
এদিকে গরুর মাংসের দাম বাড়া নিয়ে খামারিদের দোষ দিচ্ছেন মাংস ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, বড় খামারিদের কারসাজিতে বাজারে গরুর মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। দ্রব্যমূল্যের এ বাজারে যারাই গরুর মাংস কম দামে বিক্রি করতে চাচ্ছেন, তাদের সামনে খামারিদের অসাধু চক্র বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। একদিকে কোরবানিকে কেন্দ্র করে বাজার থেকে গরু উঠিয়ে নেওয়া হচ্ছে, অপরদিকে স্বল্পমূল্যের বিক্রেতাদের জীবনে হুমকি আর চাপ এসে হাজির হচ্ছে।
খামারিদের এ সিন্ডিকেট ভাঙা গেলে ৫০০ টাকায়ও গরুর মাংস কিনতে পারত সাধারণ ক্রেতা। অন্যদিকে মাসে অন্তত দু-একবার হলেও গরুর মাংসের স্বাদ নিতে পারত মধ্যবিত্ত পরিবার।
কম দামে গরুর মাংস বিক্রি করে আলোচনায় আসা ব্যবসায়ী খলিল গোস্ত বিতানের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, সরকার ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশের অনুমতি দিলে মাংসের দাম কমে ৫০০ টাকায় আসবে। অন্তত ১০ দিন ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করলে গরুর মাংস ৫০০ টাকা বিক্রি করা সম্ভব।