উপজেলা প্রতিনিধি, ভালুকা, ময়মনসিংহ: ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপর ই দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে সম্ভাব্য M.P প্রার্থীতা ঘোষণা দেয়, ময়মনসিংহ ১১ (ভালুকা) আসনের ১০ নং হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের মৃত তৈমুজ আলীর ছেলে- আব্দুল জব্বার ফকির। তবে তিনি বর্তমানে ভালুকা পৌরসভার ০৬ নং ওয়ার্ডে ভালুকা বায়তুল মোকাররম জামে মসজিদের দক্ষিণপাশে মোঃ আশরাফুল হক জজের বাসায় বসবাস করতেন। তিনি অর্থ লেনদেনের পর পলাতক রয়েছেন। তিনি পেশায় একজন চা বিক্রেতা ও কাঠমিস্ত্রী। সে একজন প্রতিবন্ধী। তার এক পা ও হাতের পরিপূর্ণ কোন আঙ্গুল নাই। জানাযায়, ইতুমধ্যে তিনি- ভালুকা উপজেলা প্রতিবন্ধী উন্নয়ন একতা পরিষদ এর সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেছেন। তার বিরুদ্ধে নানা প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। তিনি কয়েক লক্ষ টাকার পেনা ও পোষ্টার সমগ্র ভালুকা উপজেলায় ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। তখন বিষয়টি স্পষ্টছিল যে, তিনি নির্বাচন করবেন, কিন্তু নির্বাচনের সময় তিনি উদাও হয়েযান। তিনি একেক সময় একেক গ্রামকে টার্গেট করে ঐ গ্রামের বেশকিছু মানুষের সাথে একসাথে প্রতারণা করে ঐ এলাকা ত্যাগ করেন। তিনি প্রতারণা করার সময় কোন প্রমাণ রাখেন না। সম্প্রতি ভালুকা উপজেলার ২নং মেদুয়ারী ইউনিয়নের রামপুর গ্রামকে টার্গেট করেন। এই গ্রামের মোঃ গোলাম মোস্তফা ওরফে তোতামিয়ার ছেলে মোঃ আব্দুল মতিন। জব্বার মিয়া ০১/০৪/২০২৪ ইং ০১৭২৬-৮৩০০০১ এবং ০১৯৬৪-১০৬৭১২ নাম্বার থেকে আব্দুল মতিনকে ফোনকরে বলেন, আমি কিস্তিতে ০৫টি অটোরিকশা বিক্রয় করবো। প্রথমে ২৫০০০(পঁচিশ হাজার) টাকা নগদ জমাদিয়ে অটোরিকশা নিতেহবে। এরপর ১০ কিস্তিতে বাকিটাকা দিতেহবে। মতিন মিয়া- তার গ্রামের এক ভদ্রলোককে জিজ্ঞাস করেন, "আপনি প্রতিবন্ধী জব্বারকে চিনেন", উত্তরে ঐ ভদ্রলোক বলেন, "সে প্রতিবন্ধী নেতা, ভালুকা থাকে, এতটুকুই চিনি।" পরে আব্দুল মতিন মিয়া ০২/০৪/২০২৪ ইং রোজ মঙ্গলবার ২৫০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা নিয়ে ভালুকা গ্রামীণ অটো শুরুমে গিয়ে আব্দুল জব্বারের সাথে দেখা করেন। আব্দুল জব্বার- ভালুকা ফায়ারসার্ভিস সংলগ্ন প্রোঃ মোঃ রোমান মিয়ার গ্রামীণ অটো শুরুমে অটো দেখান এবং সেখানেই জব্বার ও মতিন পাশাপাশি বসে- অটোর দাম নির্ধারণ করেন- ১ লক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা। আব্দুল মতিন ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার টাকা) নগদ দেন- আব্দুল জব্বার ফকিরকে। বাকি ১,১৫০০০(একলক্ষ পনের হাজার) টাকা ১০ (দশ) কিস্তিতে পরবর্তী ১০ (দশ) মাসে পরিশোধ করবে। এ সময় শুরুমের মালিকও বলেন, সে গাড়ি পরিপূর্ণ প্রস্তুত করতে, কোন কোন মালপত্র গাড়িতে ব্যবহার করবেন। তবে টাকার বিষয়ে শুধু জব্বারের সাথেই আলোচনা করেন মতিন মিয়া। পরের দিন ০৩/০৪/২০২৪ ইং রোজ বুধবার দুপুর ১২টার ভিতরে অটোরিকশাটি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও মতিন মিয়া যথা সময়ে শুরুমে উপস্থিত হলেও আঃ জব্বার মিয়া আর শুরুমে আসেনি। উপরুক্ত তথ্যগুলো নিশ্চিত করেছেন- ভুক্তভোগী মোঃ আব্দুল মতিন। এদিকে যে ভদ্রলোক জব্বার সম্পর্কে বলছিল- "সে প্রতিবন্ধী নেতা, ভালুকা থাকে, এতটুকুই চিনি।" আঃ মতিন এখন, ঐ ভদ্রলোককে পরবর্তীতে ০৪/০৪/২০২৪ রোজ বৃহস্পতিবার বলে যে, "আপনি বলছেন চিনেন, সে জন্যই টাকা দিয়েছি, সুতরাং আপনি আমার টাকাদেন, টাকা না দিলে যেভাবে আদায় করতে হয়, ঐভাবেই বল প্রয়োগকরে আপনার কাছ থেকে টাকা আদায় করবো।" অপরদিকে ০৮/০৪/২৪ইং মতিনের ছোটভাই আলী ভদ্রলোককে বলেন, আপনি টাকা না দিলে আমরা চারভাই আপনাকে মারবো। একই তারিখে মতিনের কাছের মানুষ, রামপুর গ্রামের মোঃ শহীদ উল্লাহ সাহেবের ভাইগ্না আব্দুর রশিদ (অটো চালক) বলেন, "ভদ্রলোককে মেরে ফেললেও ভদ্রলোক খোজ পাবেনা। একবারে না মারলেও ০৬ (ছয়) মাস বিছানা থেকে উঠতে পারবেনা। " ১১/০৪/২০২৪ ইং সকালে ক্রেতার ছোটভাই আলীমিয়া ভদ্রলোককে আবার বলেন, "ভদ্রলোকের গরু বা ভদ্রলোককে ধরে নিয়ে আসবো।" ভদ্রলোক ইতুমধ্যে ক্রেতা পক্ষের হুমকির বিষয়টি ভালুকা থানায় মৌখিকভাবে অবগত করেছেন। জব্বারের সর্বশেষ বসবাসরত বিল্ডিংয়ে মেসার্স রামি এন্টারপ্রাইজ এর প্রোঃ মোঃ আঃ রাজ্জাককে ০২/০৪/২০২৪ তারিখ অটো ক্রেতা মতিন মিয়া বলেন, প্রতিবন্ধীকে ২৫,০০০ (পঁচিশ হাজার) টাকা দিয়ে মহাবিপদে আছি। যখন ভদ্রলোক জানতে পারেন, জব্বার ও মতিন অটো ক্রয়-বিক্রয় করছেন, তখন ভদ্রলোক মতিনকে বলেন, আপনারা যে অটো ক্রয়-বিক্রয় করবেন, তাতে দাম, কিস্তি ও টাকার পয়সার বিষয়ে আমাকে ভবিষ্যতে কেউ কিছু বলতে পারবেন না, লেনদেন আপনাদের ব্যক্তিগত বিষয়। তাছাড়া যাই আদান-প্রদান (অটো- প্রথম কিস্তির টাকা) করেন তা নগদ করবেন।