নিজস্ব প্রতিবেদক: জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)বহির্গমন শাখা কার্যালয়ের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা দোলন চন্দ্র বৈষবের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম,দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পূর্বের এবং বর্তমান কর্মস্থলে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি নিজ, বাবা-মা,ভাই-বোন ও স্ত্রীসহ আত্মীয়-স্বজনের নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ গড়েছেন বলে জানা গেছে।বর্তমানে তিনি একজন ঘুষখোর-দূর্নীতিবাজ কর্মকর্তা হিসেবে বেশ সুনাম অর্জন করেছেন।
অনুসন্ধান সূত্রে জানা গেছে, দোলন চন্দ্র বৈষব বর্তমানে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) প্রধান কার্যালয়ের বহির্গমন শাখার পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দাপ্তরিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে ও মাসিক মোটা অংকের বেতনে বিদেশে ভালো কোম্পানিতে চাকুরী পাইয়ে দেওয়া, দ্রুত সময়ে ভিসা ও বিমান টিকিট পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তি ও বিএমইটি তে প্রশিক্ষণ নিতে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।
সূত্রমতে, দোলন চন্দ্র বৈষব অস্বচ্ছল ও গরীব পরিবার থেকে উঠে আসা একজন সরকারী কর্মকর্তা। তার বাবা ছিলেন একজন দিনমজুর আর মা অন্যের বাড়িতে গৃহপরিচালিকার কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। কিন্তু ছেলে দোলন চন্দ্র বৈষব চাকুরী পাওয়ার পর থেকেই যেন জাদুর কাঠি হাতে পেয়ে যান। অল্প সময়ের মধ্যেই দোলন চন্দ্র বৈষব গড়ে তোলেন অঢেল সম্পদের পাহাড়।তিনি চাকুরীতে যোগদানের পর থেকেই জড়িয়ে পড়েন দূর্নীতিতে। ২০২১ সালে যখন করোনা মহামারিতে দেশের অবস্থা নাজুক তখন তিনি হবিগঞ্জের বচড়া গ্রামে ২০ লক্ষ টাকা দিয়ে বিশাল অট্টালিকা নির্মাণ করেন। এছাড়াও গ্রামের বাড়িতে গড়ে তুলেছেন বিদেশী গরুর খামার। তার খামারে রয়েছে ১৮টি অস্ট্রেলিয়া,ফ্রিজিয়ান জাতের গরু। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও গ্রামে প্রায় ২০বিঘার মতো জমি ক্রয়ের তথ্য প্রমাণও পাওয়া গেছে। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা। এছাড়াও ঢাকায় রয়েছে তার আরো ২টি ফ্লাট যার আনুমানিক মূল্য প্রায় কোটি টাকার ওপরে।
দেশের বাণিজ্যিক ব্যংকগুলোর মধ্যে ৫টি ব্যাংকে তার ব্যাক্তিগত ব্যাংক একাউন্ট রয়েছে। এইসকল একাউন্টে প্রতিমাসে লক্ষ লক্ষ টাকার লেনদেনের তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।এছাড়াও তার ব্যক্তিগত বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমেও টাকা লেনদেনের তথ্য প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, দাপ্তরিক বিভিন্ন কর্মকান্ডে ও মাসিক মোটা অংকের বেতনে বিদেশে ভালো কোম্পানিতে চাকুরী পাইয়ে দেওয়া, দ্রুত সময়ে ভিসা ও বিমান টিকিট পাইয়ে দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তি ও জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি) তে প্রশিক্ষণ নিতে আসা প্রশিক্ষণার্থীদের নিকট থেকে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয়া ঐসকল অর্থগুলো তার ব্যাক্তিগত ব্যাংক একাউন্ট ও বিকাশ একাউন্টের মাধ্যমে লেনদেন করতেন এবং প্রতারণার কাজে তিনি ঐসকল একাউন্টগুলো ব্যবহার করেন বলে জানা গেছে।
তার এইসব অপকর্ম ও দূর্নীতির বিষয়ে তার সাথে একাধিকবার তার কার্যালয়ে দেখা করতে গেলে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।তাছাড়া তার মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এই বিষয়ে জনশক্তি ও কর্মসংস্থান প্রশিক্ষণ ব্যুরো বহির্গমন শাখার পরিচালক মো: ছাদেক আহমদ কে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন- আমি দোলন চন্দ্র বৈষবের এসব অপকর্ম ও দূর্নীতির বিষয়ে অবগত নই। আপনাদের মাধ্যমে তার এই অপকর্ম ও দূর্নীতির বিষয়ে জানতে পারলাম। যারা তার দ্বার প্রতারিত ও ক্ষতিগ্রস্হ হয়েছেন তাদেরকে পরিচালকের বরাবরে অভিযোগ জানাতে বলবেন। আমরা আপনাদের দেয়া ও ভুক্তভুগীদের দেয়া অভিযোগ গুলো তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নিয়মানুযায়ী যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।