উৎপল ঘোষ,ক্রাইম রিপোর্টার : যশোর অভয়নগর থানায় মামলা থাকা সত্বেও আসামীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। বিশেষ একটি মহল আসামিদের বাঁচাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। সন্ত্রাসী হামলায় আহত সাংবাদিক পুত্র সিফাত উল্লাহ মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালের বিছানায়। থানায় মামলা থাকা সত্বেও আসামীরা বীরদর্পে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বিশেষ একটি মহল আসামীদের বাঁচাতে তৎপর। আহত সিফাত উল্লাহ সাংবাদিক এস এম উজ্জ্বল হোসেনের ছেলে। সে ঢাকার গুলশান কমার্স কলেজে অধ্যায়নরত ছাত্র হিসেবে পড়াশোনা করে। জানা গেছে, সিফাতউল্লাহ ঈদ উপলক্ষে দাদা বাড়ি যশোর অভয়নগর উপজেলার শিল্প বন্দর নগরী নওয়াপাড়ায় এলাকায় বেড়াতে আসে। ঘটনার দিন ঢাকায় ফেরার প্রস্তুতি চলছিলো সেলুনে চুল কাটতে বের হলে একই সাথে গাড়ির টিকিট কাটতে নওয়াপাড়া বাজার যাওয়ার পথে বন্ধু রাকিব ও সোহানের সাথে দেখা হয়।

পরে সেখান থেকে বিদায় নেওয়ার পথে। বিনা কারণে তাকে পৌর ছাত্রলীগের সম্পাদক কর্তৃক সন্ত্রাসী হামলায় চাপাতি ও কুড়াল দিয়ে আহত করে সিফাতউল্লাহকে। এসময় মুমূর্ষু অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তার অবস্থা আশংকা জনক হলে তাকে কর্তব্যরত চিকিৎসক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রিফার করেন। এরপর তার অবস্থা অবনতি ঘটলে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় পর দিন তার পিতা বাদী হয়ে অভয়নগর থানায় মামলা দায়ের করেন। হামলার ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় হত্যা চেষ্টার কয়েকটি ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। যার নং-৩০,তারিখ-২৬/০৪/২০২৪ ইং ।

মামলার সুত্র থেকে জানা যায়, গত( ২৫শে এপ্রিল) সকাল ১০ ঘটিকার সময় অভয়নগর থানা এলাকায় সন্ত্রাসী হামলার স্বীকার হয় সাংবাদিক পুত্র কলেজ ছাত্র এসএম সিফাতউল্লাহ(২২)। পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব মজুমদারের ছোটো ভাইকে লোক সম্মুখে সিগারেট সেবনের দৃশ্য দেখে রাকিব নামের ব্যক্তি ছেলেটিকে প্রকাশ্য ধুমপানে বাঁধা দিলে ছেলেটি রাকিবের ওপর ক্ষিপ্ত হয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। রাকিব ছেলেটিকে একটি চড় দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলেন। ছেলেটি তার বড় ভাই নাজমুস সাকিবকে অভিযোগ জানায়। রাকিব,সোহান ও সিফাত একই সাথে দাড়িয়ে কথা বলছিলো। তাৎক্ষণিক মোটরসাইকেল যোগে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব মজুমদার ও কলেজ শাখার আব্দুল-আল-নোমান এর নেতৃত্বে মোঃ ইকরাম হোসেন(২৫), মোঃ ইখলাছ(২৪),মোঃ জহির(২৫),মোঃ শাহিন মোল্লা(২৫),মোঃ কাজল(২৫), মোঃ জীবন আলী(২৫),মোঃ জিহাদ (২৩), মোঃ শাকিল(২৩),মোঃ রাতুল সহ অজ্ঞাত আরো ১০/১২ জনের একটি সন্ত্রাসীদল ধারালো অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মারমুখী অবস্থান নেয়। পরে নওয়াপাড়া কলেজ সংলগ্ন স্থানে আসলে নাজমুস সাকিব মজুমদার ও আব্দুল আল নোমানের নির্দেশে সন্ত্রাসী বাহিনী রাকিবকে হত্যার উদ্দেশ্য মারতে আসলে রাকিব, সোহান,আবির ঘটনাস্থল থেকে দৌড়ে পালিয়ে যায়। এসময় সিফাতউল্লাহ বিষয়টি বুঝতে না পেরে উক্ত স্থানে দাঁড়িয়ে থাকে। নাজমুস সাকিবের নির্দেশে ইকরাম নামের ছেলেটি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে সিফাতের ওপর হামলা চালায়। উক্ত আঘাত সিফাতের বাম হাত দিয়ে ঠেকাতে গেলে হাতের তালুর একের তৃতীয় অংশ হাড় সহ গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত হয়। পরে সিফাতউল্লাহ মাটিতে পড়ে গেলে সন্ত্রাসীদলের হাতে থাকা চাইনিজ কুড়াল, রাম দাও, চাপাতি সহ লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। তাতে ডান হাতের তালুর অংশ গুরুতর জখম ও হাড় কেটে যায়। মাথার পিছনের অংশ গুরুতর জখম ও রক্তাক্ত হয়।দুই হাটু কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে,হাতের বাহুর অংশ কুপিয়ে জখম ও রক্তাক্ত করে,মাথার পিছন অংশ গুরুতর জখম হয়। এভাবে সন্ত্রাসীদলের উপর্যুপরি হামলায় সিফাতের শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়। জীবন এখনো শন্কামুক্ত নয় বলে জানা গেছে। আহত সিফাতউল্লাহ বাচাঁর তাগিদে ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসে।মানুষের উপস্থিতি দেখে সন্ত্রাসীদল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলের পাস দিয়ে যাওয়া মুসতাকিন নামক ব্যক্তি জানায়, ছেলেটি রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে হেলাল মিয়া সহ কয়েকজনকে সাথে নিয়ে রক্তাক্ত জখম অবস্থায় সিফাতকে উদ্ধার করে অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। কর্তব্যরত ডাক্তার প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগে কর্মরত ডাক্তার রোগীর শরীরে থাকা জখমের সেলাই ও ব্যান্ডেজ করেন। তার অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তার তাৎক্ষণিক পঙ্গু হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলে আগারগাঁও অর্থপেডিক বিভাগে নেওয়া হয়। জরুরী অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে হাতের আশংকা মুক্ত হয়। আহত সিফাতউল্লাহ ঢাকার আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের পিতা সাংবাদিক এস এম উজ্জ্বল হোসেন বলেন, মেধাবী ছাত্র তাকে সন্ত্রাসীরা চাপাতি দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি ভাবে কুপিয়ে জখম করা করেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলেও আসামীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে অবস্থান করছে। এখনো পর্যন্ত পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। এ বিষয়টি নিয়ে বিশেষ একটি মহল আসামীদের বাঁচাতে তৎপর রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের সংসদ সদস্য এনামুল হক বাবুল ফরাজী আহতের সিফাতউ্ল্লাহ খোঁজ খবর নেন এবং আসামীদের গ্রেফতারে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে আশস্থ করেন। হামলার ঘটনার বিবরণ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব মজুমদারের বিরুদ্ধে ধোপাদী গ্রামের যুবলীগ নেতা মুরাদ হোসেন হত্যাসহ বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে এলাকার মানুষ ক্ষুব্ধ। অতিদ্রুত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার দাবিতে আন্দোলন হবে বলে তিনি হুশিয়ারী দেন। সচেতন মহল বলছেন মামলার বাদী একজন গণমাধ্যমের মানুষ হওয়ায় এলাকার সাধারণ মানুষের দাবী কোনো ভাবেই যেনো অপরাধীদের ছেড়ে দেওয়া না হয় এবং এলাকার সন্ত্রাসী নির্মূলে গণমাধ্যম সহ প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানায়, সব দিকে পুলিশের লোক