নিউজ ডেস্ক: সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া কলেজপাড়া গ্রামের ময়েন উদ্দীনের একমাত্র কন্যা আফরিনা আফরোজ। উল্লাপাড়ায় অবস্থিত উল্লাপাড়া আকবর আলী সরকারী কলেজে বিএ সম্মানে পড়ার সময় পরিচয় হয় শাহজাদপুর থানার কায়েমপুর ইউনিয়নের চিনাধুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল জবাবারের ছেলে নুর ইসলামের সাথে। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ধীরে ধীরে গভীর হয় তাদের সম্পর্ক। তারা একে অপরকে ভালোবেসে ফেলেন।আর এই ভালোবাসাকে স্বীকৃতি দিতেই দুই পরিবারের সম্মতিক্রমে ২০২২ সালের ২৪শে জানুয়ারী মাসে ১৫লক্ষ টাকা কাবিনে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন ২জন । বিয়ের সময় নুর ইসলামের চাকুরির জন্য ঘুষ দেয়ার বাবদ যৌতুক হিসেবে ২৫ লক্ষ টাকা দাবি করা হলে নুর ইসলামের শ্বশুর বাড়ির ভিটে জমি বিক্রি করে দিয়ে নগদ ১৫লক্ষ টাকা বিয়ের দিনই নুর ইসলামের হাতে তুলে দেন।বিয়ের কিছুদিনের মধ্যেই নুর ইসলামের চাকুরি হয় শিক্ষা প্রকৌশলি অধিদপ্তরে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক হিসেবে। চাকুরীতে যোগদানের পর থেকেই পরিবর্তন হতে থাকে নুর ইসলামের আচরণ। কথায় কথায় মারধোর এবং শারিরীক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে তার স্ত্রীর ওপরে। যৌতুকলোভী নুর ইসলাম তার স্ত্রীর নিকট আরো ২ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করে। না দিতে পারায় বাবার স্ত্রীকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় নুর ইসলাম।বিয়ের ৭মাসের মাথায় গর্ভবতী হন নুর ইসলামের স্ত্রী আফরিনা। গর্ভবতীর বিষয়টি নুর ইসলাম জানতে পারলে তার দুলাভাইয়ের মাধ্যমে তার স্ত্রী আফরিনা কে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন। এরপর জোড়পূর্বক বাচ্চা নষ্টের ঔষধ কাইয়ে তার স্ত্রীর গর্ভপাত করানো হয়। সেই সাথে চলতে থাকে তার স্ত্রীর ওপরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে আসেন আফরিনা তার বাবার বাড়িতে। এর কিছুদিন পরে নুর ইসলাম তার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে আফরিনাকে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে চায় এবং কিস্তি উঠানোর কথা বলে জামিনদার হিসেবে ৩০০টাকার সাদা স্ট্যাম্পের ওপরে আফরিনার কাছ থেকে স্বাক্ষর নেয় আর বলে যায় পরের সপ্তাহের শুক্রবারে এসে নুর ইসলাম সহ তার বাড়ির লোকজন আফরিনাকে নিয়ে যাবে। এর পরে আর আসেনি নুর ইসলাম বা তার বাড়ির লোকজন।স্বামীর সংসারে ফিরে যাওয়ার আর কোন রাস্তা না দেখতে পেয়ে ২০২৩ সালের ১৫ই আগষ্টে উল্লাপাড়া মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন যার অভিযোগ নং-১২৭৪। এতেও কোন সুরাহা না হওয়ায় সিরাজগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-১ এ ৩১২/৩১৩ ও ৩৮৬ দন্ডবিধির ধারায় মামলা দায়ের করেন।বর্তমানে নুর ইসলাম জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বগুড়া জেলা কার্যালয়ে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োযিত রয়েছেন।