
মোঃ আল আমিন, জেলা প্রতিনিধি (গাইবান্ধা): বালাসী-বাহাদুরাবাদ ঘাট রুটে ফেরি সার্ভিস চালু করতে নির্মাণ করা হয় নৌ-টার্মিনাল ও অন্যান্য অবকাঠামো। দুই দফায় প্রকল্পটির ব্যয় বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা খরচ করে প্রকল্পটির কাজ শেষ হলেও দীর্ঘ দিনেও আলোর মুখে দেখেনি। যমুনা-ব্রহ্মপুত্রে নাব্য সঙ্কটের কারণে ফেরি বা জাহাজ চলাচল করতে না পারায় কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টার্মিনাল দু’টি এখন অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের বালাসী ফেরিঘাট টার্মিনালে যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে তা এভাবে ফেলে রাখা হলে অযত্ন অবহেলায় একসময় সব নষ্ট হয়ে যাবে। এই জায়গা ও অবকাঠামো ব্যবহার করে এখানে চর গবেষণা কেন্দ্র চালু করার দাবি তুলেছে গাইবান্ধাবাসী। এ জেলার ১৬৫টি চর-দ্বীপচরসহ কুড়িগ্রাম, বগুড়া এবং জামালপুর জেলার চরাঞ্চল, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে চর গবেষণা কেন্দ্র/চর উন্নয়ন বোর্ড বা চর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে তার কার্যালয় হিসেবে ফেরিঘাট টার্মিনালটি ব্যবহার করা হোক। সরকারের কোটি কোটি টাকা অপচয়ের চেয়ে জনস্বার্থের বিষয়টি ভাবনায় রেখে গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ হাসান রিপন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এ অঞ্চলের মানুষ। বালাসীঘাটে নির্মিত নৌ-টার্মিনাল ও নয়নাভিরাম অবকাঠামো এখন জনমানবহীন প্রান্তর সদৃশ্য হয়ে আছে। বাস টার্মিনাল, টোল আদায় বুথ, পুলিশ ব্যারাক, ফায়ার সার্ভিস, আধুনিক ডিজাইনের মসজিদ, খাবার হোটেল ও আনসার ব্যারাকসহ বেশ কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। বোনারপাড়া রেলস্টেশন সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ সরকার ১৯৩৮ সালে নদের এপারে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের তিস্তামুখঘাট ওপারে জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার বাহাদুরাবাদ ঘাটে ফেরি সার্ভিসের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চল-রাজধানীর রেল যোগাযোগ চালু ছিল। উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলার মানুষ ট্রেনেযোগে বোনারপাড়া রেল জংশন হয়ে তিস্তামুখ ঘাটে এরপর তিস্তামুখ ঘাট থেকে ফেরিতে পার হয়ে ওপারে বাহাদুরাবাদে গিয়ে ট্রেনে উঠে ঢাকায় যেতেন। ১৯৯৮ সালের জুন মাসে যমুনা বহুমুখী সেতু চালু হয়। ফলে ২০০০ সাল থেকে এরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অকার্যকর হয়ে পড়ে বালাসীঘাট। তখন থেকে প্রায় ২২ বছর বালাসী-বাহাদুরাবাদ রুটে ফেরি চলাচল বন্ধ আছে। অবশ্য শ্যালো ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার অব্যাহত ছিল। এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর যানবাহনের চাপ কমাতে বিকল্প পথ তৈরি করার যুক্তি দেখিয়ে ২০১৪ সালে বালাসী ও বাহাদুরাবাদে ফেরিঘাট চালুর লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। পরে ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে একনেকের সভায় বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌ রুটটি আবারও চালু করতে ফেরি ঘাট নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ১২৪ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। পরে প্রকল্প ব্যয় বাড়িয়ে ১৪৫ কোটি ২৭ লাখ টাকা খরচ করে বেশ কিছু স্থাপনা নির্মাণ করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ’র কারিগরি কমিটি হঠাৎ করে নাব্য সংকট ও ২৬ কিলোমিটার বিশাল দূরত্বের নৌপথসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরে নৌ রুটটি চলাচলে অনুপযোগী বলে মন্তব্য করে। ফুলছড়ি উদাখালী গ্রামের ওমর ফারুক রনি বলেন, কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে অবকাঠামো নির্মিত হলেও তা এখন পড়ে আছে। ফেলে না রেখে দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের কথা চিন্তা করে এ জেলার ১৬৫টি চর-দ্বীপচরসহ কুড়িগ্রাম, বগুড়া এবং জামালপুর জেলার চরাঞ্চল, চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে চর গবেষণা কেন্দ্র/চর উন্নয়ন বোর্ড বা চর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করে তার কার্যালয় হিসেবে ফেরিঘাট টার্মিনালটি ব্যবহার করা যেতে পারে। গাইবান্ধা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম বলেন, অনেক অর্থ ব্যয়ে বালাসী ফেরিঘাট নির্মাণ করা হয়েছে। কিন্তু এটির কোনো ব্যবহার হচ্ছে না। এজন্য সংশ্লিষ্টদের এ ব্যাপারে জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত। সেইসাথে অব্যবহৃত এই ফেরিঘাটটিকে চরাঞ্চলের মানুষের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে বিকল্প কিছুর মাধ্যমে ফেরিঘাটটিকে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ বিষয়ে ফুলছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম সেলিম পারভেজ বলেন, বালাসী-বাহাদুরাবাদ নৌরুটে লঞ্চ সার্ভিস চালু হলেও তা মুখথুবরে পড়ে আছে। বালাসীর জায়গা ও অবকাঠামো ব্যবহার করে চর গবেষণা কেন্দ্র চালুর দাবি করছি।