
ব্যাথায় কাতর হয়ে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের ১৩ নং বিছানায় রেজিঃ BDH 2656536 ভর্তি হয়েছিলেন জেলা সদরের কুন্দুপুকুর ইউনিয়নের পাটকামরী গ্রামের লোকমান হোসেনের স্ত্রী গোল নাহার বেগম (৫৫)।
ডাক্তারী রিপোর্ট পর্যালোচনার পর রোগ মুক্ত হতে তাঁর অপারেশন সিদ্ধান্ত নেন গোলনাহার বেগমের পরিবার। কিন্তু অপারেশনের পর ভোগান্তি যেন পিছু ছাড়ছেই না গোলনাহার বেগমের।
গোলনাহার বেগমের মেয়ে জামাতা দুলু মিয়া অভিযোগ করে বলেন, “হাসপাতালের গাইনী বিভাগের ডা. মনিরুজ্জামান মনি ও ডা. ওবায়দা নাজনীন মুক্তা আমার শ্বাশুড়ী গোলনাহার বেগমের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল পর্যালোচনা করে আমার শ্বাশুড়ীর জরায়ু টিউমার হয়েছে মর্মে জানিয়ে অপারেশন করেন। কিন্তু আমার শ্বাশুড়ীর যে সমস্যা ছিল তা সমাধান হয়নি। পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার শ্বাশুড়ীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানাস্তর করেন।
রোগীর জামাতা দুলু আরোও বলেন, জরায়ু টিউমার অপারেশনের জন্য আমার শ্বাশুড়ী গোল নাহার বেগমের বুকের উপর থেকে নাভি পর্যন্ত কেটেও আমার শ্বাশুড়ীর সমস্যা সমাধান হয়নি। ডাঃ ওবায়দা নাজনীন মুক্তা ম্যাডাম বলেছেন আমার শাশুড়িকে সার্জারী ডাক্তার ও ক্যান্সারের ডাক্তার দেখাতে হবে। নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের ডাক্তারগণ আমার শ্বাশুড়ী গোলনাহার বেগমের ভুল অপারেশন করেছেন। অপারেশনের বিষয়ে নীলফামারী জেলার কয়েকজন গণমাধ্যম কর্মী
নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. আবু আল হাজ্জাজ অপারেশনের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে তিনি জানান অপারেশনটি ডাঃ মনিরুজ্জামান মনি ও ডাঃ ওবায়দা নাজনীন মুক্তা করেছেন তবে রোগীর স্বজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়েছে। আগামী ৫ কর্মদিবসের মধ্যেই তদন্তের ফলাফল হাতে পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ডা;আব্দুর রহিমের মুঠোফোন থেকে ডাঃ ওবায়দা নাজনীন মুক্তার সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে উনি ফোন তোলেননি।
তবে, রোগীর স্বজনদের এমন অভিযোগ নিয়ে, হাসপাতালের অন্যন্য রোগীর মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যেরও সৃষ্টি হয়েছে।