
গাইবান্ধা-৫ (সাঘাটা-ফুলছড়ি) আসনের সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মো. ফারুক আলম সরকার। তিনি সমগ্র আসনের ভোট পুনঃগণনা এবং এ প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ স্থগিত রাখার জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে জমা দেওয়া আবেদনে তিনি নির্বাচনের দিন বিভিন্ন কেন্দ্রে সংঘটিত অনিয়মের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন। আবেদনে বলা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ভোটগ্রহণ চলাকালে একাধিক কেন্দ্রে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক পক্ষপাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, জুমারবাড়ি হাই স্কুল কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসার ফলাফল ঘোষণার আগেই তার এজেন্টের কাছ থেকে ফাঁকা ফরমে স্বাক্ষর নেন, যা নির্বাচন বিধির পরিপন্থী। এছাড়া পবনতাইড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ শতাধিক কেন্দ্রে এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া এবং কৌশলে ফলাফল পরিবর্তনের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, নির্দিষ্ট একটি প্রতীক (দাঁড়িপাল্লা)কে বিজয়ী করার লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে কাজ করেছেন।
আবেদনপত্রে ফারুক আলম সরকার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুরো নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় “নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর ছাপ স্পষ্ট ছিল এবং প্রিজাইডিং অফিসারসহ প্রশাসনের একটি অংশ বিশেষ প্রতীকের পক্ষে ভূমিকা রেখেছে। তিনি এ ঘটনাকে অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সাথে তুলনা করে দাবি করেন, তার সম্ভাব্য নিশ্চিত বিজয়কে পরিকল্পিতভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাঘাটা-ফুলছড়ি এলাকার প্রতিটি কেন্দ্রের ফলাফল পুনঃযাচাই করে স্বচ্ছভাবে ভোট পুনঃগণনা করা না হলে প্রকৃত ভোটের প্রতিফলন পাওয়া সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণেরও আহ্বান জানান তিনি।
আবেদনের শেষাংশে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোট পুনঃগণনা সম্পন্ন হওয়ার আগে গেজেট প্রকাশ করা হলে তা ভোটারদের গণরায়ের প্রতি অবিচার হবে।
তবে এ বিষয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।