
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি ধারণকারী বধ্যভূমি ও গণকবরসমূহ যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণ এবং গাইবান্ধা স্টেডিয়াম সংলগ্ন বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণের দাবিতে গাইবান্ধায় আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও আলোর মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৫টায় গাইবান্ধা পৌর শহিদ মিনার চত্বরে প্রগতিশীল রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। এরপর দেশাত্মবোধক গান, কবিতা আবৃত্তি ও গণসংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে ২৫ মার্চের কালরাতের ভয়াবহ স্মৃতি তুলে ধরা হয়। আলোচনা সভায় বক্তারা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানার আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে রাজনীতিবিদ ওয়াজিউর রহমান রাফেল, মুক্তিযুদ্ধ গবেষক জহুরুল কাইয়ুম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহমুদুল হক শাহজাদা ও ওয়াশিকার ইকবাল মাজু, গাইবান্ধা বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, রাজনীতিক মিহির ঘোষ, বাংলাদেশ প্রগতি লেখক সংঘের জেলা সভাপতি কবি দেবাশীষ দাশ দেবু, নারীনেত্রী ও সাংবাদিক রিক্তু প্রসাদ, শহীদ পরিবারের সদস্য ও উন্নয়নকর্মী প্রবীর চক্রবর্তীসহ অন্যান্য বক্তারা বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে শহীদদের ত্যাগ ও ইতিহাস যথাযথভাবে সংরক্ষিত থাকবে। কিন্তু দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা বহু বধ্যভূমি ও গণকবর এখনো চিহ্নিত বা সংরক্ষিত হয়নি। অবহেলা, দখল ও অজ্ঞতার কারণে এসব ঐতিহাসিক স্থান হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
তারা আরও বলেন, বধ্যভূমি ও গণকবর শুধু অতীতের স্মারক নয়, এগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য শিক্ষা ও চেতনার উৎস। তাই দ্রুত এসব স্থান চিহ্নিত করে সংরক্ষণ এবং গাইবান্ধার প্রধান বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান বক্তারা।
আলোচনা শেষে সন্ধ্যায় একটি আলোর মিছিল শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে স্টেডিয়াম সংলগ্ন বধ্যভূমিতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।