
নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক ঢলে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়েই চলেছে। দুর্যোগের ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়ার পর পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় নেপালে ৪৬৯ জন এবং তিব্বতে ৩ জনসহ মোট ৪৭২ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে নেপালের পুলিশ ও চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। গত বুধবার সকালে এই আকস্মিক দুর্যোগটি আঘাত হানে, যা গত ১১ বছরের মধ্যে নেপালের জন্য সবচেয়ে বড় বিপর্যয় হিসেবে দেখা দিয়েছে।
উদ্ধারকারী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এই দুর্যোগে এখনো ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যে কেবল তিব্বতেই নিখোঁজ ব্যক্তির সংখ্যা ৫৫০ জনের বেশি। নিখোঁজদের তালিকায় শত শত বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। রেডক্রসের একজন কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া এলাকায় দ্বিতীয় দফায় বন্যা আঘাত হানতে পারে এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা অত্যন্ত সতর্ক ও উদ্বিগ্ন অবস্থায় কাজ করছেন।
বিজ্ঞানীদের মতে, নেপালের লাংটাং লিরুং পর্বতের উত্তর ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ বরফ ও পাথরের ধস নেমে লহেন্দেখোলা নদীতে পড়লে এই ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে আটকে গিয়ে একটি প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই বাঁধ ভেঙে পানি, বরফ, পাথর ও কাদার প্রবল স্রোত ভাটির দিকে নেমে আসে, যা গ্রামের পর গ্রাম ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
বর্তমানে চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে পানি জমে একটি বিশাল হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এই হ্রদের পানি যেকোনো সময় উপচে পড়ে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি করেছে। বেইজিং থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হ্রদটির পানি উপচে পড়ার ঝুঁকিতে থাকায় স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারীরা নতুন করে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
দুর্যোগের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে এখনো বিশ্লেষণ চলছে। রয়টার্স ও কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ভয়াবহতা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে নেপাল-তিব্বত সীমান্তে নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং জীবিতদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মৃত মানুষের সংখ্যা বেড়ে অন্তত ৪৭২ হয়েছে।