
গাইবান্ধায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এক জেলা নেতাকে ঘিরে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। সংগঠনটির জেলা সভাপতি মাহফুজ সরকার রাকিব এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়ার পর শেষ পর্যন্ত ৭ লাখ টাকা দেনমোহরে তাকে ওই তরুণীকেই বিয়ে করতে হয়েছে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোলদহ (সৈয়দপুর) গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের বাসিন্দা মোঃ আঃ জলিলের বাড়িতে গভীর রাতে অনধিকার প্রবেশ করেন মাহফুজ রাকিব। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা বাড়িটি ঘেরাও করে এবং ভেতরে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে। এ সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে শুক্রবার (৩১ জুলাই) স্থানীয় মাতব্বর ও এলাকাবাসীর মধ্যস্থতায় আঃ জলিলের মেয়ে জুই আক্তারের সঙ্গে ৭ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য করে তাদের বিয়ে সম্পন্ন করা হয়।
মাহফুজ সরকার রাকিব ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর গাইবান্ধা জেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দাওরায়ে হাদিস, বিএসসি (অনার্স) ও ফাজিল ডিগ্রিধারী বলেও জানা গেছে। তার মতো একটি ধর্মীয় সংগঠনের শীর্ষ পর্যায়ের নেতার এমন ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, তিনি নিয়মিত সংগঠনের কর্মীদের নৈতিকতা, ধর্মীয় অনুশাসন এবং আত্মশুদ্ধির বিষয়ে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দিতেন। কিন্তু বাস্তব জীবনে তার এমন কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই নেতৃত্বের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বিষয়টি তরুণ সমাজের জন্য বিভ্রান্তিকর বলে মন্তব্য করেছেন।