
সিলেট নগরের তাঁতীপাড়া এলাকায় অবস্থিত ‘ফুড ক্লাব স্পাইসি রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড টেকঅ্যাওয়ে’ এখন ভোজনরসিকদের কাছে এক নতুন গন্তব্য হয়ে উঠছে। শতবর্ষী দি এইডেড হাইস্কুলের পাশে ৪ নম্বর বাসার এই রেস্তোরাঁটি ২০২৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে যাত্রা শুরু করে। এখানে কোনো পেশাদার কর্মী নেই; বরং রেস্তোরাঁর মালিক থেকে শুরু করে রান্না ও পরিবেশন—সব দায়িত্বই পালন করছেন একটি পরিবারের সদস্যরা।
রেস্তোরাঁটির মূল দায়িত্বে রয়েছেন ৫১ বছর বয়সী রেহানা ইয়াসমীন। তাঁর বড় ভাই খুরশেদুল আলম (৭০) পুরো কার্যক্রম তদারক করেন। এছাড়া রান্নার কাজে যুক্ত আছেন রেহানার বোন সাবিনা ইয়াসমীন ও ভাবি নাজমা বেগম। রেহানা ইয়াসমীন জানান, তাঁদের এখানে বাইরের কোনো কর্মী নেই। ঘরে যেভাবে পরিবারের সদস্যরা মিলেমিশে খাবার তৈরি করেন, ঠিক সেই ঘরোয়া পরিবেশ ও স্বাদ বজায় রাখাই তাঁদের মূল লক্ষ্য।
এই রেস্তোরাঁটি চালুর পেছনে রয়েছে এক ভিন্ন গল্প। একসময় বাসার সামনের অংশটি রেস্তোরাঁ করার জন্য ভাড়া দেওয়া হয়েছিল। শর্ত ছিল, রেহানা ও খুরশেদুল শেফদের কাছ থেকে রান্না শিখবেন এবং ব্যবসায় অংশীদার থাকবেন। তবে ভাড়া নেওয়া ব্যক্তিরা ব্যবসা শুরু না করায়, রেহানা ও খুরশেদুল নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ভাঙাচোরা জায়গাটি সংস্কার করে রেস্তোরাঁটি গড়ে তোলেন। রান্নায় কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও নিজেদের ঘরোয়া রান্নার ওপর ভরসা করেই তাঁরা সফল হয়েছেন।
বর্তমানে এখানে ৩৫ ধরনের খাবার পাওয়া যায়। প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ৬০ জন ক্রেতা এখানে খেতে আসেন, তবে ছুটির দিনে বা স্কুলের পরীক্ষার সময় এই সংখ্যা ১০০ ছাড়িয়ে যায়। শুক্রবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ছয় দিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত রেস্তোরাঁটি খোলা থাকে। নিরিবিলি পরিবেশে কম তেল-মসলায় রান্না করা খাবার পরিবেশন করায় ক্রেতাদের কাছে এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে।
খাবারের মেনু ও দামের বিষয়ে দেয়ালে টাঙানো ফেস্টুন থেকে জানা যায়, বিফ খিচুড়ি ১৪০ টাকা, চিকেন খিচুড়ি ১২০ টাকা এবং ভুনা খিচুড়ি ও ডিম ফ্রাই ৮৫ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া চালের রুটি ও গরুর মাংস ২২০ টাকা এবং চালের রুটি ও চিকেন ২০০ টাকায় বিক্রি হয়। ভাত, মাছ, সবজি ও ডালের সমন্বয়ে তৈরি খাবারের দাম ১৫০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে। গরুর মাংস, ভাত, ডাল ও সবজি ২৪০ টাকা এবং গরুর কলিজা, ভাত, ডাল ও সবজি ৩৫০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
নাশতার আয়োজনে রয়েছে চালের রুটি ১৫ টাকা, ভাপা পিঠা ৩০ টাকা, পাটিসাপটা ৩০ টাকা, সমুচা ১৫ টাকা, শিঙাড়া ১০ টাকা ও নকশি পিঠা ৩০ টাকা। পানীয়র মধ্যে কফি ৮০ টাকা, দুধ চা ৩০ টাকা এবং ভেষজ উপকরণে তৈরি সোলেমানি চা ১৫ টাকায় পাওয়া যায়।
শহরের কালীবাড়ি এলাকার বাসিন্দা অর্পণ তালুকদার জানান, নিরিবিলি পরিবেশ ও ঘরোয়া স্বাদের কারণে তিনি প্রায়ই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে এখানে খেতে আসেন। ব্যবসার শুরুতে বড় কোনো পরিকল্পনা না থাকলেও, বর্তমানে এই ঘরোয়া রান্নার স্বাদই রেস্তোরাঁটির প্রধান পরিচয়ে পরিণত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সঙ্গে ঘিয়ে ভাজা পাটিসাপটা, পাঁচমিশালি মাছের তরকারি, নানা রকম ভর্তা, পিঠা, শিঙাড়া আর সমুচা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিরিবিলি পরিবেশে আয়েশ করে খেয়ে তৃপ্তি নিয়ে ফিরছেন ভোজনরসিকেরা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে এখানকার খাবারের স্বাদ ও মানের কথা ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সম্প্রতি এক সন্ধ্যায় রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেখা গেল, ভেতরে কয়েকটি টেবিল-চেয়ার পাতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কেউ ভাত-তরকারি খাচ্ছেন, কেউ খিচুড়ি, কেউবা নাশতা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই রেস্তোরাঁর বিশেষত্ব শুধু খাবারে নয়, পরিচালনাতেও।