
অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস এয়ারওয়েজ তাদের বহরে থাকা ১০টি এয়ারবাস এ৩৮০ উড়োজাহাজ নির্ধারিত সময়ের চার বছর আগেই অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২০২৮ সালের মাঝামাঝি নাগাদ এই সুপারজাম্বোগুলো সরিয়ে নেওয়া হবে। রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বৃদ্ধি, যন্ত্রাংশ সরবরাহে জটিলতা এবং অধিক জ্বালানি-সাশ্রয়ী নতুন প্রজন্মের উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার লক্ষ্যেই মূলত এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একসময় আকাশপথের নতুন যুগের প্রতীক হিসেবে পরিচিত চার ইঞ্জিনের এই বিশাল উড়োজাহাজটি বোয়িং ৭৪৭-এর আধিপত্যকে চ্যালেঞ্জ জানাতে তৈরি করেছিল এয়ারবাস। দুই তলা বিশিষ্ট এই বিমানে সর্বোচ্চ ৮৫৩ জন যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। ২০০৭ সালে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে বাণিজ্যিক যাত্রা শুরুর পর এর বিশাল আকার ও প্রশস্ত কেবিন যাত্রীদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তবে বিশাল পরিচালন ব্যয় এবং ৫০০ বা তার বেশি আসন নিয়মিত পূরণ করার চ্যালেঞ্জ এয়ারলাইন্সগুলোর জন্য বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এর বিপরীতে দুই ইঞ্জিনের বোয়িং ৭৮৭ ও এয়ারবাস এ৩৫০-এর মতো আধুনিক উড়োজাহাজগুলো কম জ্বালানিতে দীর্ঘ দূরত্ব পাড়ি দিতে সক্ষম হওয়ায় এ৩৮০-এর বাণিজ্যিক আকর্ষণ কমতে থাকে।
করোনাভাইরাস মহামারি এই উড়োজাহাজটির পতনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্থবির হয়ে পড়ায় বিশ্বের প্রায় সব এ৩৮০ সাময়িকভাবে গ্রাউন্ডেড করা হয়েছিল, যার মধ্যে কান্তাসের উড়োজাহাজগুলো ৫০০ দিনেরও বেশি সময় উড্ডয়ন বন্ধ রেখেছিল। ২০২১ সালে এয়ারবাস আনুষ্ঠানিকভাবে এ৩৮০-এর উৎপাদন বন্ধ করে দেয়। মোট ২৫১টি এ৩৮০ সরবরাহ করা হলেও জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে ১৯৬টি উড়োজাহাজ সেবায় রয়েছে। ইতোপূর্বে এয়ার ফ্রান্স, চায়না সাউদার্ন, মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সসহ থাই এয়ারওয়েজ, লুফথানসা, কোরিয়ান এয়ার, সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ও কাতার এয়ারওয়েজ তাদের বহর থেকে এই মডেলের উড়োজাহাজ কমিয়ে এনেছে।
তবে আকাশপথে সুপারজাম্বোর উপস্থিতি এখনই পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। বিশ্বের বৃহত্তম এ৩৮০ অপারেটর এমিরেটস তাদের বহরে থাকা ১১৬টি উড়োজাহাজ নিয়ে ২০৪০-এর দশক পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স ও ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের ১২টি করে, লুফথানসা, কাতার এয়ারওয়েজ ও ইতিহাদ এয়ারওয়েজের আটটি করে এ৩৮০ এখনো সচল রয়েছে। পাশাপাশি কোরিয়ান এয়ার, এশিয়ানা এয়ারলাইন্স এবং জাপানের অল নিপ্পন এয়ারওয়েজও এই মডেলটি পরিচালনা করছে, যা প্রমাণ করে যে এ৩৮০-এর পতন শুরু হলেও এর ব্যবহারিক অস্তিত্ব এখনো টিকে আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সঙ্গে ৫০০ বা তার বেশি আসন নিয়মিত পূরণ করাও অনেক এয়ারলাইন্সের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে এ৩৮০-এর বাণিজ্যিক আকর্ষণ ক্রমেই কমে যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ইতোমধ্যে এয়ার ফ্রান্স ২০২০ সালে তাদের ১০টি এ৩৮০ অবসরে পাঠিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চায়না সাউদার্ন ২০২২ সালে পাঁচটি এবং মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স ২০২৩ সালে ছয়টি এ৩৮০ সরিয়ে নেয়।