
অস্ট্রেলিয়ার তাসমানিয়ায় দীর্ঘ তিন বছর ধরে নিখোঁজ থাকার পর বেলজিয়ান পর্যটক সেলিন ক্রেমারের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। ৩১ বছর বয়সী এই পর্যটক ২০২৩ সালের ১৭ জুন ক্র্যাডল মাউন্টেন এলাকায় একাকী হাইকিংয়ে বেরিয়ে আর ফিরে আসেননি। ঘন বনাঞ্চলে তার কোনো সন্ধান না মেলায় নয় দিন পর নিখোঁজের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকারী দলের জন্য তল্লাশি অভিযান অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল, যার ফলে দীর্ঘ সময় ধরে তার কোনো হদিস পাওয়া যায়নি।
ঘটনার মোড় ঘোরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে, যখন নতুন করে তল্লাশি চালানোর সময় হাইকিং ট্রেইল থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে সেলিনের মোবাইল ফোনটি খুঁজে পাওয়া যায়। এরপর চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে আর্থার নামে একজন হাইকার নদীর তীরে কিছু হাড় দেখতে পান। পরবর্তীতে পুলিশি অনুসন্ধানে আরও হাড়, দাঁত, ব্যক্তিগত পোশাক এবং সেলিনের গাড়ির চাবি উদ্ধার করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষার পর ফেব্রুয়ারিতে পুলিশ নিশ্চিত করে যে, উদ্ধারকৃত দেহাবশেষগুলো সেলিন ক্রেমারেরই।
সর্বশেষ শুক্রবার (২৮ আগস্ট) তাসমানিয়ার করোনার ম্যাডেলিন উইলসন এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৭ থেকে ২১ জুনের মধ্যে যেকোনো সময়ে সেলিনের মৃত্যু হয়েছে এবং এটি একটি দুর্ঘটনা ছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, ১৭ জুন বিকেল ৩টা ৪৯ মিনিটের দিকে তিনি পথ হারিয়ে ফেলেন এবং বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে তার ফোনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ তিন বছর অনিশ্চয়তার পর দেহাবশেষ উদ্ধারের ঘটনায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন সেলিনের বোন অ্যামেলি। তিনি জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে সেলিনকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে নেওয়া সম্ভব হচ্ছে। দেশটির করোনার আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে তার মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই দীর্ঘ অনুসন্ধানের সমাপ্তি টানল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাসমানিয়ার ঘন বনাঞ্চলে যাওয়ার পর তিনি আর ফিরে না আসায় ৯ দিন পর নিখোঁজের খবর দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এরপর চলতি বছরের (২০২৬ সাল) জানুয়ারিতে আর্থার নামে একজন হাইকার নদীর তীরে কিছু হাড় দেখতে পান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে একটি ট্রেইলহেডে তার গাড়ি পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এর পরও কয়েক দফা অনুসন্ধান চালানো হয়েছিল, কিন্তু বছরের পর বছর তার কোনো সন্ধান মেলেনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার দিন তিনি ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছিলেন এবং গুগল ম্যাপ ব্যবহার করে পথ খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: করোনারের মতে, ক্রেমার ফিলসফার ফলস ঘুরে সরাসরি গাড়ির পার্কিং এলাকায় না ফিরে ম্যাগনেট ড্যামের দিকে যাওয়া একটি অপরিষ্কার পথ ধরেছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তখন শীতের বিকেল দ্রুত অন্ধকার হয়ে আসছিল।