
লিবিয়া থেকে প্রতারণা ও পাচারের শিকার ৩০৯ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফ্লাই ওয়া ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত একটি বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে তারা ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর যৌথ উদ্যোগে এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইওএম-এর কর্মকর্তারা তাদের স্বাগত জানান।
বিমানবন্দর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের (বিএমইটি) সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহেদ হোসেন জানান, দেশে ফেরা প্রত্যেককে আইওএমের পক্ষ থেকে ছয় হাজার টাকা নগদ সহায়তা ও খাবার দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকেও তাদের সার্বিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, লিবিয়ায় অবস্থানরত এসব বাংলাদেশি মূলত মানবপাচারকারী চক্রের প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন। ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা তাদের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টার সময় অনেকে ধরা পড়েন, আবার অনেকে লিবিয়ায় অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, লিবিয়া সরকার এবং আইওএম ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছে। সরকার অবৈধ উপায়ে বিদেশযাত্রা নিরুৎসাহিত করতে এবং বিদেশে বিপদে পড়া নাগরিকদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনে সর্বদা কাজ করে যাচ্ছে।