
একসময় একটি পরিপাটি ও ভুলত্রুটিমুক্ত জীবনবৃত্তান্ত চাকরিপ্রার্থীর পেশাদারিত্বের বড় পরিচয় ছিল। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহজলভ্যতায় এখন মুহূর্তেই ঝকঝকে ও নিখুঁত সিভি তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। ফলে নিয়োগদাতাদের কাছে এখন একই ধরনের ভাষা ও কাঠামোর অসংখ্য আবেদন জমা পড়ছে, যা প্রার্থীর স্বকীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
চাকরিপ্রার্থীরা এখন এআই টুল ব্যবহার করে নিজেদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাগুলোকে পেশাদার ভাষায় সাজিয়ে নিচ্ছেন। একই সঙ্গে চাকরির বিজ্ঞপ্তির সাথে মিল রেখে কি-ওয়ার্ড যুক্ত করা হচ্ছে। তবে এই অতি-নিখুঁত উপস্থাপনা অনেক সময় নিয়োগদাতার মনে সংশয় তৈরি করে যে, এটি কি প্রার্থীর নিজের লেখা নাকি যন্ত্রের তৈরি।
নিয়োগদাতাদের মনোভাব নিয়ে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ২০ শতাংশ নিয়োগদাতা এআই দিয়ে তৈরি বলে সন্দেহ হলে সেই সিভি বা কভার লেটার সরাসরি বাতিল করে দেন। এছাড়া এক-তৃতীয়াংশের বেশি নিয়োগদাতা জানিয়েছেন, তারা ২০ সেকেন্ডের কম সময়েই এআই দিয়ে তৈরি আবেদনের ধরন শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
এআইয়ের যুগে টিকে থাকতে হলে সিভিতে নিজের কণ্ঠস্বর ও বাস্তব অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটানো জরুরি। সাধারণ ও প্রচলিত শব্দের পরিবর্তে নির্দিষ্ট অর্জন, প্রকল্প এবং তার ফলাফল তুলে ধরা বেশি কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, ‘দলের দক্ষতা বাড়িয়েছি’ না লিখে, কোনো নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন এনে কী ধরনের ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে, তা বিস্তারিত উল্লেখ করা উচিত। অর্থাৎ, আপনি কী করেছেন তার চেয়ে কীভাবে করেছেন এবং তার প্রভাব কী ছিল, সেটিই নিয়োগদাতার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এর মানে এই নয় যে এআই ব্যবহার পুরোপুরি বর্জন করতে হবে। সিভির ফরম্যাট ঠিক করা, বুলেট পয়েন্ট তৈরি করা কিংবা খসড়া যাচাইয়ের জন্য এআইয়ের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে পুরো সিভি এআই দিয়ে তৈরি করা, নিজের অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে বলা বা মিথ্যা দক্ষতা যোগ করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
সবশেষে একটি সহজ নিয়ম মেনে চলা যেতে পারে—সিভির প্রতিটি বাক্যের ব্যাখ্যা যেন আপনি সাক্ষাৎকারে অনায়াসে দিতে পারেন। এআইয়ের যুগে চাকরি পাওয়ার লড়াইটা এখন আর সবচেয়ে নিখুঁত সিভি তৈরির প্রতিযোগিতা নয়, বরং নিজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কতটা বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরা যাচ্ছে, সেটিই এখন আসল চ্যালেঞ্জ। চাকরির আরও তথ্য: একসময় একটি পরিপাটি, ভুলত্রুটিমুক্ত জীবনবৃত্তান্তই চাকরিপ্রার্থীকে অন্যদের চেয়ে আলাদা হওয়ার অন্যতম উপায় ছিল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সুন্দর ভাষা, গোছানো উপস্থাপন ও পেশাদার ফরম্যাট প্রার্থীর মনোযোগ ও যোগাযোগ দক্ষতার ইঙ্গিত দিত। চাকরির আরও তথ্য: ফলে ‘নিখুঁত’ সিভি আর আগের মতো আলাদা করে নজর কাড়ছে না; বরং কখনো কখনো সেটিই নিয়োগদাতার সন্দেহের কারণ হয়ে উঠছে। চাকরির আরও তথ্য: এক পরীক্ষার অপেক্ষায় বছর পার, চাকরিপ্রার্থী সাত লাখ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ঢাবি আইবিএতে পোশাক ব্যবসায় পোস্টগ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা, নেই টিউশন ফি।