
গত ২৮ অক্টোবর ২৩ ঢাকায় অনুষ্ঠিত বিএনপির মহাসমাবেশ উপলক্ষে খুলনা জেলার আইন-শৃঙ্গলা রক্ষার্থে গৃহীত নিরাপত্তামূলক ডিউটির জন্য জেলা গোয়েন্দা শাখার এসআই শেখ ইমরুল করিমের নেতৃত্বে মোট ০৫ জন সদস্য খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানা এলাকায় টহল ডিউটি ও সন্দেহ ব্যক্তিদের তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা করছিল। রাতে ডিউটি শেষ করে কনস্টেবল শাহ আলম তার পরিচিত জুয়েল নামে একজনের মোটরসাইকেল যোগে ও অন্যরা নিজেদের মোটরসাইকেল যোগে খুলনা জেলা গোয়েন্দা অফিসে ফেরার পথে ডুমুরিয়া থানাধীন বরাতিয়া গ্রামের বিশ্বাস বাড়ীর সামনে টার্নিংয়ে পৌছালে বিপরীত দিক হতে আসা বেপরোয়া গতির (ঢাকা মেট্রো-ব-১৫-৩৮৫৫) যাত্রীবাহী ইমাদ পরিবহন জুয়েল এর মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয়। এ সময় মোটরসাইকেল আরোহী কনস্টেবল শাহ-আলম ও চালক জুয়েল মিয়া মারাত্মক ভাবে আহত হয়।
খবর পেয়ে ডুমুরিয়া ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে এ্যাম্বুলেন্স যোগে মুমূর্ষু অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক পুলিশ সদস্য শাহ আলম’কে মৃত ঘোষণা করেন এবং চালক জুয়েল মিয়া গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকে।
অপর দিকে খুলনার খর্ণিয়া হাইওয়ে থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় এবং বাসটি আটক করতে সক্ষম হয়। কিন্তু বাসটির চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার পালিয়ে যায়।
চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনায় খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানায় সড়ক পরিব্হন আইনে পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার এর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন।
র্যাব-৬, কোম্পানি কমান্ডার মেজর মোহাম্মদ সাকিব হোসেন এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, (সিপিসি-৩, যশোর ও স্পেশাল কোম্পানী) এর একটি যৌথ আভিযানিক দল উক্ত রুজুকৃত মামলার (ঘাতক) আসামীদের গ্রেফতারে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করে এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, চাঞ্চল্যকর ও মর্মান্তিক ঘটনায় মূল ঘাতক গাড়ির চালক খুলনা খানজাহানআলী থানার ৭ নং ওয়ার্ডের শিরোমনি এলাকার মৃত শামসুর রহমানের পুত্র মোঃ সাগর শেখ ঢাকা হইতে বাসযোগে যশোর পালবাড়ি হয়ে খুলনা যাইতেছে। এমন সংবাদ পেয়ে ১৮ নভেম্বর ২৩ আজ গভীর রাতে পালবাড়ি মোড়ে অস্থায়ী চেকপোষ্ট স্থাপন করে আসামী সাগর শেখ’কে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।