স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকার সাভার উপজেলার আমিনবাজার ভাঙ্গা লোহার ব্রিজ সংলগ্ন বলিয়াপুর এলাকায় এসিআই ফ্যাক্টরি থেকে কফিল ব্রিক্স এর পেছন পার্শে ১২টি ও টিমটেক্স এর পেছন পার্শে ৩ টি সহ মোট ১৫টি সিসা তৈরির কারখানা চলছে। কফিল ব্রিক্স ইটভাটার পূর্ব পাশে এলাকায় অবৈধভাবে পুরাতন বাটারি আগুনে জ্বালানিয়ে সিসা তৈরি করছে। কারখানার ব্যাটারি পোড়ানোর কালো ধোঁয়া ও উৎকট গন্ধে অতিষ্ঠ প্রায় ১ লক্ষাধিক মানুষ। অবৈধ সিসা তৈরি কারখানায় নষ্ট ও পুরাতন ব্যাটারি পুড়ানো ও লোহার বর্জ্য এনে গলানো হচ্ছে। বর্জ্য আগুনে জ্বালানোর সময় এর ক্ষতিকারক এসিডের ধোঁয়ায় ক্ষতি হচ্ছে স্থানীয় মানুষের, দূষিত হচ্ছে চারপাশের পরিবেশ, নষ্ট হচ্ছে ফসল ও জমি।

পাশাপাশি এখানে কর্মরত কর্মচারীরাও মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন। শুধু তাই-ই নয়, সিসা কারখানার আশপাশে জন্মানো ঘাস খেয়ে হুমকির মুখে পড়ছে পশুপাখি ও গরু ছাগল। সরেজমিন দেখা যায়, সাভার উপজেলার আমিনবাজার ভাঙ্গা লোহার ব্রিজ সংলগ্ন বলিয়াপুর এলাকায় কফিল ব্রিক্স ইটভাটারপূর্ব পাশে ময়লার ভাগাড়ের মধ্যে গড়ে উঠেছে অবৈধ সিসা কারখানা। কারখানায় চলে দিনরাত অবৈধভাবে পুরাতন বাটারি আগুনে জ্বালানিয়ে সিসা তৈরির কাজ করছে। কারখানায় প্রতিনিয়ত ৩০/৪০ জন শ্রমিক কাজ করেন। চুল্লির মধ্যে এসিড মিশ্রিত ব্যাটারির বর্জ্য সাজানো আছে। আগুন দিয়ে তা গলানো হচ্ছে। পাশেই বৈদ্যুতিক পাখা থেকে বাতাস দেয়া হচ্ছে। এভাবে বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় সিসা তৈরি হচ্ছে। এ সিসা কারখানার বিষাক্ত এসিড ও ধোঁয়ায় আশপাশের গাছপালা, গরু ছাগল মরা যাচ্ছে। কলকারখানায় কাজ করা কর্মকর্তা ও কর্মচারী মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিভিন্ন জটিল রোগ ব্যাধি।

আমিনবাজার এলাকার বাসিন্দা তোতা মিয়া বলেন, সিসা কারখানাটি এলাকার খুব ক্ষতি করছে। কারখানার ধোঁয়া, উৎকট গন্ধ ও সাদা বর্জ্যরে কারণে এলাকার অনেকেই হাঁপানি, কাশি, মাথাব্যথাসহ নানা রোগে ভুগছে। প্রায়ই শুনি প্রশাসন কারখানাটি ভেঙে দেবে। কিন্তু কই, কিছুই তো দেখি না। কারখানাটি আগে যেমন চলছিল, এখনো তেমন চলছে।’স্থানীয় এক গৃহবধূ জানান, রাতে যখন ব্যাটারি পোড়ানো হয়, তখন গোটা এলাকা ধোঁয়ায় অন্ধকার হয়ে যায়। তখন আমাদের ছোট শিশুদের শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। শিশুদের নাক জ্বালাপোড়া করে ও শিশুরা অনেক কান্না করে। স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক আবুল হোসেন বলেন, কারখানার বিষাক্ত ধোঁয়া কুয়াশার মতো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ ধরনের সিসা কারখানা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। গাছের ফল পড়ে যায় ও ধানের ফলন কম হয়। সিসা পোড়ানো ধোঁয়ার কারণে মানুষের থাইরয়েডের সমস্যাটা বেশি হয়।

এটি শিশুদের মেধা বিকাশে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ফুসফুসে সমস্যা ও রক্তশূন্যতার সৃষ্টি করে। গর্ভবতী মহিলাদের জন্যও এটি খুব ক্ষতিকর। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিকর শিশুদের জন্য। এসব কারখানায় যেসব শ্রমিক কাজ করেন তাদের জীবনও মারাত্মক হুমকির মুখে থাকে। সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহুল চন্দ বলেন, সিসা কারখানাটি এলাকাবসীর অনেক ক্ষতি করছে। শিগগির ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ সিসা কারখানাটি উচ্ছেদ করা হবে।
এই বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাকা অঞ্চলের কর্মকর্তা মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, এর আগেও আমরা ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে জরিমানা আদায় ও কারখানাগুলো উচ্ছেদ করেছিলাম। তারা নতুন করে আবারো শুরু করেছে বিষয়টি জানা ছিল না।২/১ দিনের মধ্যেই আবারো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে অবৈধ সিসা কারখানাটি উচ্ছেদ করা হবে