
৯০ দশকের বগুড়ার এক সময়কার তুখোর ও নির্ভীক সাংবাদকি মোঃ শহদিুল ইসলাম বকুল।যাকে অনেকে মোশাই বকুল নামে চিনতেন । চাঞ্চল্যকর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য তুমুল জনপ্রিয় এবং দুর্নীতিবাজদের মূর্তিমান আতঙ্ক ছিলেন তিনি।
দৈনিক উত্তরাঞ্চল পত্রিকায় সাংবাদিকতার হাতেখড়ি হয়েছিল তার।
এরপর দৈনিক মুক্তবার্তা,দৈনিক চাঁদনী বাজার,দৈনিক বগুড়ায় দাপটের সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন। সেই সময়ে সারাদেশে দূর্দান্ত জনপ্রিয় জাতীয় দৈনিক মিল্লাতের দূর্ধর্ষ সাংবাদিক ছিলেন শহীদুল ইসলাম বকুল।
নব্বই দশকের শেষের দিকে এসে দৈনিক সাতমাথা পত্রিকার বার্তা সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন।
দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা আর ভুমিদস্যুদের পিলে চমকানো প্রতিবেদনের জন্য একসময় চারদিকে শত্রুবেষ্টিত হয়ে পড়েন অকুতোভয়,আপসহীন প্রবল সাহসী এই সাংবাদিক।
এই সময় তার জীবনের এক মস্তবড় বাঁক পরিবর্তন ঘটে। তিনি দ্বীনের দায়ী হয়ে দীর্ঘসময় ধরে তাবলীগ জামায়াতের চিল্লা দিতে থাকেন। দাড়ি টুপি জোব্বায় আর ইমান আমলে নিজেকে সম্পুর্ণ পাল্টে ফেলেন বিশাল হৃদয়ের এই মানুষটি।
জীবন বাজি রেখে আপসহীন সাংবাদিকতায় লড়তে গিয়ে একসময় বগুড়ার চিহ্নিত ভুমিদস্যুদের কিলিং স্কোয়াড তাকে মেরে ফেলার জন্য অপহরণ করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীদের চরম নির্যাতনে মৃত ভেবে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া বকুল আল্লাহর অশেষ দয়া ও মেহেরবানীতে বেঁচে উঠলেও সেই ঘটনার পর থেকে ক্রমেই তার জীবনীশক্তি লোপ পেতে থাকে।
ঘাতক সন্ত্রাসীদের কবল থেকে রক্ষা পেলেও সবসময় চেনা-অচেনা শত্রুরা তাকে আড়াল থেকে তাড়া করতো।
২০১৭ সালে হঠাৎ করে স্ট্রোকে তিনি মৃত্যুমুখে পতিত হন। তারপর থেকেই সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বকুলকে জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ দু:সময়গুলো নি:সঙ্গতায় পার করতে হচ্ছে।
এই ভালো মানুষটির জন্য আপনাদের প্রাণখোলা দোয়া চাই আপনাদের দোয়ার বরকতে আল্লাহ তাকে সুস্থ করে দিবেন।
একসময়ের ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাও তার কাছ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। আয়-রোজগারের সব পথ বন্ধ হয়ে যায়। ব্যায়বহুল চিকিৎসা আর ওষুধ কিনতে পেরেশান হয়ে পড়েন অসাধারণ সাদামনের মানুষ সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বকুল।
একমাত্র ছেলে সাগর আর স্ত্রীকে নিয়ে বকুল ভাইয়ের ছোট সুখের সংসার ছিল। শুধুমাত্র আপসহীন দু:সাহসী সাংবাদিকতার কারনেই তার সেই সুখের সংসারে আজ দু:সময় ভর করেছে। সাংবাদিক সহযোদ্ধারাও তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়েছে। বগুড়া প্রেসক্লাবের সদস্যপদেও থাকতে পারেননি তিনি। সাংবাদিক ইউনিয়ন বগুড়াও এখন তাকে ভুলে গেছে।
দীর্ঘ সময়ের চরম নি:সঙ্গতায় দিন পার করা সাংবাদিক শহীদুল ইসলাম বকুলের পাশে গিয়ে দাঁড়ালে হয়তো তিনি বেঁচে থাকার আরেকটু প্রাণশক্তি ফিরে পেতেন। এই দু:সময়ে আরেকটু সুখ ও স্বস্তি পেতেন। মোবাইল ফোনে একটু খোজ খবর নিলেও তার নি:সঙ্গতা কেটে যাবে। তিনি উঠে দাঁড়ানোর শক্তি ও সাহস পাবেন। প্রিয় সাংবাদিক সহযোদ্ধা বন্ধু !