
চেনা মুখের নীরব টান
লেখক: মনি কিশোর
তুমি তো আমায় আর ডাকলে না।
সেই দীর্ঘ পথ পেরিয়ে
আমি ছুটে গিয়েছিলাম তোমার কাছে-
তোমার ছোঁয়ায় মুগ্ধ হব বলে।
ফেরার সময় ঘনিয়ে এলে,
ফিরতি পথে তুমি বলেছিলে,
“আবার আসবে তো?
ভালোবেসে তোমার দেয়া নামেই ডাকবে তো?”
আমার মুচকি হাসিটুকুই
তোমায় বলে দিয়েছিল সব-
থাকতে এসেছি,
চলে যেতে নয়।
কিন্তু থাকা হলো না।
হঠাৎ করেই চোখের সামনে
নেমে এলো এক নিমিষের ধোঁয়াশা,
চেনা পৃথিবী অচেনা হয়ে গেল।
ফিরে তাকিয়ে দেখি-
তুমি নিস্তব্ধ,
তোমার মুখে আর কোনো ভাষা নেই।
সবকিছু কেমন যেন অধরা,
এক অস্পষ্ট শূন্যতা
মনের গভীরে ধীরে বাসা বাঁধে।
শেষ পর্যন্ত তুমি কোথায় জানি
নিঃশব্দে বিলীন হয়ে গেলে।
আমি খুঁজেছি,
অকারণে নয়, বিশ্বাস নিয়েই।
আমাদের পথচলার ইতিহাস
লেখা ছিল পথের ধুলিকণায়,
শুধু তাই নয়,
সমুদ্র আর নদীর বুকেও
তার চিহ্ন রয়ে গিয়েছিল।
সাত সমুদ্র, তেরো নদীর কাছে
আমি প্রশ্ন রেখে এসেছি-
তোমার কিনারায় কি সে
একবারও আসেনি?
তোমার বুকে কি তার
একটুকু পদচিহ্নও পড়েনি?
পথপ্রান্তের গুল্মলতাগুলো আজ
আমাকে দেখে থমকে দাঁড়ায়,
সব জেনেও তারা
নীরবতাকেই বেছে নেয়।
আর সেই নীরবতার ছায়া
অবলীলায় আমাকে জড়িয়ে ধরে,
ধীরে ধীরে
আমার শূন্যতাকে
আরও গভীর করে তোলে।
“এ যেন সত্যি এক চেনা মুখের নীরব টান”।