
খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার টিএসবি ইউনিয়নের পাঁচানী গ্রামের প্রবীণ সমাজসেবক, স্বল্পবাহিরদিয়া পাঁচানী হরিসভা মন্দির কমিটির সভাপতি এবং রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতা সুধীর কুমার দাস (৮৪) পরলোকগমন করেছেন। হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২৪ জুলাই দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনার নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতালে তিনি ইহলোক থেকে পরলোকগমন করেন।
তার মৃত্যুতে তার এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই আত্মীয়-স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী, সহকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার বাসভবনে ভিড় জমান। সবার চোখে ছিল প্রিয় মানুষটিকে হারানোর বেদনা। ২৪ জুলাই রাতে তার নিজ বাসভবনের পাশেই ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। শেষ বিদায়ে অসংখ্য মানুষ উপস্থিত থেকে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন। ব্যবসায়ী সুধীর কুমার দাস দীর্ঘদিন ধরে নীরবে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক নানা কর্মকাণ্ডের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন। সমাজের কল্যাণে অবদান, মানুষের প্রতি আন্তরিকতা, বিনয়ী আচরণ এবং নেতৃত্বগুণ তাকে সকলের কাছে একজন শ্রদ্ধাভাজন ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। হরিসভা মন্দিরের উন্নয়ন এবং পূজা উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তার অবদান এলাকাবাসী চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। পরলোকগমনকালে তিনি স্ত্রী, ১ পুত্র সন্তান ও ৩ কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তার একমাত্র পুত্র সমর কুমার দাস বাংলাদেশ রুপালি ব্যাংকের সিনিয়র প্রিন্সিপাল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন।
তার শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রূপসা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বিকাশ মিত্র, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব আজিজুর রহমান, রূপসা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শক্তিপদ বসু, সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ গোপাল সেন, সাবেক ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম কচি, খান আলিম হাসান, মুন্না সরদার, নজরুল ইসলাম, জহিরুল হক শারাদ, খন্দকার ইমরান হোসেন, টিটো জমাদ্দার, ডাঃ বিক্রম নন্দী, পূজা উদযাপন পরিষদ নেতা চিত্ত রঞ্জন সেন, প্রবীর রায়, তিমির দত্ত, গনেশ দাস, রাজু রায়, অমল রায়, নারান দাস, অপু দাস প্রমূখ।
তার প্রয়াণে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই স্মৃতিচারণ করে বলেন, সুধীর কুমার দাস ছিলেন একজন সৎ, পরোপকারী ও মানবিক মানুষ। সমাজ ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে তার নিষ্ঠা এবং মানুষের প্রতি ভালোবাসা তার এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনায় এলাকাবাসী সকলের কাছে প্রার্থনা জানিয়েছেন।
স্টাফ রিপোর্টার 



















