
“আমাকে কেউ একটা ‘চাকরি’ দিবেন? আমার একটা (চাকরি) খুব দরকার।” সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এমনই এক আবেগঘন পোস্ট দিয়ে সর্বস্তরে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার মনসুর হোসেন ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল। তিনি একইসঙ্গে উপজেলা ছাত্রদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রদলের পদধারী শীর্ষ নেতা হওয়ার পরও দীর্ঘদিনের বেকারত্ব এবং তীব্র আর্থিক টানাপোড়েনে পড়ে এমন আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি। পোস্টটি নজরে আসার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তা নিয়ে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। নেটিজেনদের অনেকেই তার এই সৎ ও সাহসী আকুতির প্রশংসা করছেন। একই সঙ্গে রাজপথের এক তরুণ ছাত্রনেতার বাস্তব জীবনসংগ্রামের এমন করুণ চিত্র দেখে সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
ফেসবুক পোস্টে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে ফিরোজ আহম্মেদ শাকিল লেখেন, “খারাপ লাগতেছে ফেসবুকে বলতে, তার পরেও জীবিকার তাগিদে বলতে হচ্ছে। এমন কেউ নেই যে তাকে একটা চাকরির কথা বলিনি আমি। কেউ একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দিলো না। সময়ে বন্ধু সকলেই, অসময়ের বন্ধু কেউ না। কয়েক মাস ধরে অনেক চেষ্টা করলাম।”
রাজনীতির পেছনের ত্যাগের হিসাব টেনে তিনি আরও লেখেন, “রাজনীতি আমাকে কিছু দেয়নি, দেয়ও না, বরং রাজনীতিতে আমি সব কিছু দিয়েছি। ৫টি মামলা আছে, ২ বার জেল খেটেছি। জেল, মামলা, হামলা, নির্যাতন সব খেয়েও এই সময়ে এসে কাউকে পাশে পেলাম না। কেউ মনে করলো না, কেউ খোঁজ-খবরও নিলো না বেঁচে আছি, নাকি মারা গেছি। নিজে বাঁচার জন্য এবং নিজের পরিবার-প্রিয়জনদের নিয়ে বাঁচার জন্য হলেও একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেন ভাই।”
এ বিষয়ে ফিরোজ আহম্মেদ শাকিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজের কঠিন বাস্তবতার কথা স্বীকার করে বলেন, “পড়াশোনা ও রাজনীতির পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরেই সম্মানজনক একটি কাজের সন্ধান করছি। কিন্তু কোথাও কোনো ব্যবস্থা হচ্ছে না। পরিবারের সার্বিক পরিস্থিতি ও নিজের খরচ চালানো দিন দিন কঠিন হয়ে পড়ছে। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেই সবার কাছে এই সাহায্য চেয়ে আকুতি জানিয়েছি।
উপজেলা ও কলেজ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, পদ-পদবি বা রাজনীতির বাইরেও একজন তরুণের সাধারণ জীবনসংগ্রাম ও পরিবারের দায়বদ্ধতা থাকে। শাকিলের এই পোস্টটি সেই চরম বাস্তবতাই আবার স্মরণ করিয়ে দিলো। রাজপথের লড়াই-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা এই ছাত্রনেতার মানবিক ও স্পষ্ট পোস্টটি বর্তমানে স্থানীয় রাজনীতি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ আলোচনার সৃষ্টি করেছে।