
খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির তথ্য বিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল বলেছেন, শিক্ষা জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতির মূল ভিত্তি। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে পারলেই একটি দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে থাকাকালে শিক্ষার প্রসার ও শিক্ষার্থীদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। তারই নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের আমলে সারাদেশে প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়, মেয়েদের দশম শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়, নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি চালু করা হয় এবং দরিদ্র পরিবারের শিশুদের বিদ্যালয়মুখী করতে খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়। শিক্ষাকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণেও তখন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানো হয়।
তিনি বলেন, আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করলেই হবে না, সৎ, যোগ্য, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত হবে। একজন শিক্ষার্থীর ভালো ফলাফলের পেছনে শিক্ষক ও অভিভাবকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষকরা জাতি গঠনের কারিগর। তারা শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা দেন না, একজন শিক্ষার্থীর চিন্তা, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ জীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
একইভাবে অভিভাবকদেরও সন্তানদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের চলাফেরা, বন্ধু-বান্ধব ও নৈতিক বিকাশের দিকে নজর রাখতে হবে। গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অনেক মেধাবী ও প্রতিভাবান শিক্ষার্থী রয়েছে। প্রয়োজনীয় সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে তারাও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। তাই শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য দূর করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকতে হবে। প্রযুক্তির যুগে মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটকে অপব্যবহার না করে জ্ঞান অর্জন ও নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির কাজে ব্যবহার করতে হবে। তিনি অর্ধবার্ষিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান এবং যারা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল করতে পারেনি তাদের হতাশ না হয়ে আরও মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করার আহ্বান জানান।
এসময় তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শুধু একটি ভবন নয়, একটি বিদ্যালয় একটি এলাকার ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। তাই শিক্ষার মানোন্নয়ন ও বিদ্যালয়ের উন্নয়নে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সমাজের সচেতন মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রয়াত বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর লক্ষ্য ছিল সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং বিশেষ করে মেয়েদের বিদ্যালয়মুখী করা।
তিনি বলেন, শিক্ষা শুধু চাকরি পাওয়ার জন্য নয়, শিক্ষা একজন মানুষকে বিবেকবান ও দায়িত্বশীল করে তোলে। একজন শিক্ষার্থীকে নিজের ভবিষ্যতের পাশাপাশি দেশ ও মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে হবে। জীবনে বড় হতে হলে স্বপ্ন দেখতে হবে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
আজ যারা ভালো ফলাফল করে পুরস্কৃত হয়েছে, তাদের এই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। আর যারা এবার পুরস্কার পায়নি, তাদের আগামী পরীক্ষার জন্য আরও বেশি প্রস্তুতি নিতে হবে। পরিশেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, বাগমারা শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে ভালো ফলাফল করে নিজেদের পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকার সুনাম বয়ে আনবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি খুলনার রূপসা উপজেলার নৈহাটি ইউনিয়নের বাগমারা শামসুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফলাফল, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং শিক্ষক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান মন্টু। প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাখেন খুলনা জেলা বিএনপির আহবায়ক খান জুলফিকার আলি জুলু, মোল্যা খায়রুল ইসলাম, মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএ আনোয়ারুল কুদ্দুস, রূপসা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোল্যা সাইফুর রহমান,সদস্য সচিব জাবেদ হোসেন মল্লিক, জেলা স্বেচ্ছাসেবকদলের আহবায়ক আতাউর রহমান রুনু, জেলা বিএনপির সদস্য মোল্যা রিয়াজুল ইসলাম,জেলা কৃষকদলের সাধারন সম্পাদক শেখ আবু সাঈদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দাতা সদস্য বিদ্যালয়ের রেহেনা ইশা। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তৃতা করেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: হায়দার আলী। সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শিক্ষক মোঃ দিদারুল ইসলাম।