
সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে স্কুলগেট থেকে অপহৃত তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র শিপন মিয়া (১০)-কে বেলকুচি উপজেলার খামার উল্লাপাড়া এলাকা থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মোতালেব পরামানিক (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে কাজিপুর থানা পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। গ্রেফতার মোতালেব পরামানিক শাহজাদপুর উপজেলার নবীপুর গ্রামের মৃত ময়দান পরামানিকের ছেলে।
পুলিশ ও শিশুটির পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার শিপন মিয়া ভানুডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস শেষে বাড়ি ফিরছিল। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে শিপনের সহপাঠীদের কাছ থেকে তারা জানতে পারেন, এক ব্যক্তি স্কুলের গেট থেকে তাকে সঙ্গে করে নিয়ে গেছে।
পরিবারের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিপনের মায়ের মোবাইল ফোনে কল করেন মোতালেব পরামানিক। প্রথমে শিশুটিকে ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন তিনি। পরে আবার ফোন করে অর্থের পরিবর্তে তার সাবেক স্ত্রী বিলকিছকে তার কাছে তুলে দেওয়ার দাবি জানান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শিপনের বাবা সবুজ মিয়া (৩৬) বলেন, মোতালেব পরামানিক তার বোনের সাবেক স্বামী। পারিবারিক বিরোধের কারণে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে তার বোন মোতালেবকে তালাক দেন। পরবর্তীতে তার বোন অন্যত্র বিয়ে করেন। এরপরও মোতালেব তার বোনকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে আসছিলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সবুজ মিয়া আরও বলেন, “আমার ছেলেকে অপহরণের পর আমরা পুলিশের কাছে বিষয়টি জানাই। এরপর পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে।”
কাজিপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রাফেল চাম্বুগং জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। সোমবার (১০ আগস্ট) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলকুচি উপজেলার খামার উল্লাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোতালেব পরামানিককে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিপন মিয়াকে উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং মঙ্গলবার তাকে আদালতে পাঠানো হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।