
মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়াকে কেন্দ্র করে আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে আসা ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে সোমবার শুনানি শেষে আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রায়ের দিন ধার্য করা হয়।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক এবং আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান অংশ নেন। আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার আগে উচ্চ আদালতের অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২১ মে মামলার নথি হাইকোর্টে পৌঁছায় এবং পেপারবুক প্রস্তুত শেষে মামলাটি শুনানির জন্য বিশেষায়িত বেঞ্চে তোলা হয়।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ রমজানের ছুটিতে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিল শিশু আছিয়া। ওই রাতেই সে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়। অভিযোগ রয়েছে, বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে নির্যাতনের পর প্রাণনাশের চেষ্টা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পুলিশ তদন্ত শেষে ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২৩ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ২৭ এপ্রিল থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। মাত্র ১৩ কার্যদিবসে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে গত বছরের ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান রায় ঘোষণা করেন।
বিচারিক আদালতের রায়ে প্রধান আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। তবে অপর তিন আসামি—নিহত শিশুর বোনের স্বামী সজীব শেখ, তার ছোট ভাই এবং তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস প্রদান করেন আদালত। মামলার সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে আজ বহুল আলোচিত এই ঘটনার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করবেন হাইকোর্ট। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পরে চার আসামিকেই গ্রেপ্তার করে পুলিশ।