
২০২৫ সালের ৭ মে শুরু হওয়া ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সামরিক অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সময় পাকিস্তানের কিরানা হিলস এলাকায় একটি ভারতীয় ‘লোইটারিং মিউনিশন’ বা ড্রোন আঘাত হেনেছিল। ভারতের সাবেক চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল অনিল চৌহান সম্প্রতি নয়াদিল্লির বিবেকানন্দ ইন্টারন্যাশনাল ফাউন্ডেশনের এক অনুষ্ঠানে এই অভিযানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ওই ড্রোনটি মূলত সারগোধা এলাকার কাছাকাছি কোনো রাডার শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল।
জেনারেল চৌহানের ভাষ্য অনুযায়ী, অপারেশন সিঁদুর শুরুর আগেই সারগোধা ও এর আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েকটি লোইটারিং মিউনিশন মোতায়েন করা হয়েছিল। এগুলো নির্দিষ্ট এলাকায় দীর্ঘ সময় অবস্থান করে লক্ষ্যবস্তু খুঁজে বের করার সক্ষমতা রাখে। কিরানা হিলসে আঘাত করা ড্রোনটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রাডার শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার পর সেখানে গিয়ে আঘাত হানে। কিরানা হিলস এলাকাটি সারগোধা থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার উত্তরে অবস্থিত এবং এটি পাকিস্তানের সামরিক ও পারমাণবিক অবকাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন মহলে আলোচিত হয়ে আসছে।
তবে জেনারেল চৌহান স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, কিরানা হিলসে ভারতীয় ড্রোনটি আঘাত করলেও এর লক্ষ্যবস্তু পাকিস্তানের কোনো পারমাণবিক স্থাপনা ছিল না। এই বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি ওই সময়কার ভারতীয় সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ও পরিধি নিয়ে চলমান বিভিন্ন জল্পনার একটি ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে সন্ত্রাসী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারত এই অভিযান পরিচালনা করেছিল। ওই হামলার পর পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে অবস্থিত সন্ত্রাসী অবকাঠামো লক্ষ্য করেই মূলত অপারেশন সিঁদুর চালানো হয়।
অভিযান চলাকালীন পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে জেনারেল চৌহান আরও জানান, ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের স্কারদুতে হামলার অনুমোদন পেয়েছিল। তবে কৌশলগত কারণে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে এসে বিকল্প লক্ষ্য হিসেবে পাকিস্তানের ভোলারি এলাকার একটি সামরিক স্থাপনাকে বেছে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে ভোলারির একটি হ্যাঙ্গারে ভারতীয় হামলার ছবি ও স্যাটেলাইটচিত্রও প্রকাশিত হয়েছিল।
অপারেশন সিঁদুরের পরবর্তী কয়েক দিনে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলা চলতে থাকে এবং অবশেষে ১০ মে উভয় দেশ যুদ্ধবিরতির সমঝোতায় পৌঁছায়। জেনারেল চৌহানের এই নতুন তথ্য প্রকাশের পর কিরানা হিলসে ভারতীয় ড্রোনের আঘাতের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে ভারতীয় বাহিনীর পক্ষ থেকে এই ব্যাখ্যার বাইরে কিরানা হিলসে ঠিক কোন স্থাপনায় ড্রোনটি আঘাত করেছিল বা সেখানে কী ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
উল্লেখ্য যে, এই অভিযানের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনার সময় জেনারেল চৌহানের সঙ্গে অপারেশন সিঁদুরের সময় ভারতীয় বিমানবাহিনীর ডিরেক্টর জেনারেল অব এয়ার অপারেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করা অবসরপ্রাপ্ত এয়ার মার্শালও উপস্থিত ছিলেন। এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস ও দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মতো সংবাদমাধ্যমে এই অভিযানের তথ্যগুলো উঠে এসেছে।