
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি ২২ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তার সরকারি বাসভবনে ঘটে যাওয়া একটি অদ্ভুত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন। সেখানে তিনি নিয়মিত যেসব প্রশ্নের মুখোমুখি হন, তার উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি বাসভবনের পরিবেশ ও নিজের ব্যক্তিগত অনুভূতির কথা ব্যক্ত করেছেন।
তাকাইচি জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনটি দেশটির রাজনৈতিক ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে আছে। ১৯৩০-এর দশকে জাপানে সংঘটিত দুটি ব্যর্থ অভ্যুত্থানের সঙ্গে ভবনটির ঐতিহাসিক যোগসূত্র রয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা অনুযায়ী, ওই সময় নিহত ব্যক্তিদের আত্মা নাকি এই বাসভবনে ঘোরাফেরা করে। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রায়ই জানতে চাওয়া হয় যে, তিনি সেখানে কোনো ভূত দেখেছেন কি না। তবে তাকাইচি স্পষ্ট করেছেন, তিনি এখন পর্যন্ত কোনো ভূত দেখেননি।
ভূতের বদলে প্রধানমন্ত্রীর সামনে হাজির হয়েছিল বাস্তবের একটি তেলাপোকা। তাকাইচি জানান, এর আগে সদস্যদের আবাসিক ভবনে থাকার সময় তিনি কখনো তেলাপোকার মুখোমুখি হননি। সরকারি বাসভবনে ওঠার পরও তিনি পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে অত্যন্ত সতর্ক ছিলেন। কিন্তু একদিন হঠাৎ খাবার টেবিলের পাশ দিয়ে একটি তেলাপোকা দৌড়ে যেতে দেখে তিনি বেশ অবাক হন।
নিজের চিন্তাভাবনা প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জানান, ছোটবেলায় ওসামু তেজুকার ‘ফিনিক্স’ মাঙ্গা তার খুব প্রিয় ছিল। পুনর্জন্ম ও জীবনের চক্র নিয়ে তৈরি সেই গল্পের প্রভাব তার মধ্যে এতটাই গভীর যে, তেলাপোকাটিকে মেরে ফেলার বদলে তিনি সেটিকে কিছু সময়ের জন্য বাড়ির ভেতরেই ঘুরে বেড়াতে দিয়েছিলেন। তার মনে হয়েছিল, হয়তো এই জীবনও পুনর্জন্মের দীর্ঘ চক্রেরই একটি অংশ।
তবে তেলাপোকাটিকে বেশিদিন স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াতে দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রীর কর্মীরা বিষয়টি জানতে পারেন। তাকাইচির ভাষ্যমতে, বিষয়টি শুনে তার এক কর্মী বেশ উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং এটি অস্বাস্থ্যকর উল্লেখ করে নিজেই ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর কর্মীদের উদ্যোগে তেলাপোকাটি ধরার জন্য একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়, যাকে তাকাইচি মজার ছলে ‘অপারেশন কমব্যাট’ বলে অভিহিত করেছেন।
কর্মীদের সেই অভিযানের পর বাসভবনে আর কোনো তেলাপোকা দেখা যায়নি। কিন্তু ঘটনাটির শেষটা ছিল কিছুটা অপ্রত্যাশিত। তাকাইচি লিখেছেন, তেলাপোকাটি চলে যাওয়ায় তিনি স্বস্তি পেলেও একই সঙ্গে কিছুটা একাকী বা বিষণ্ন বোধ করছিলেন।
তেলাপোকার এই গল্পটি প্রকাশের আগে আরেকটি পোস্টে তাকাইচি জানিয়েছিলেন যে, তিনি এখন দপ্তরের পরিবর্তে সরকারি বাসভবন থেকেই বেশি কাজ করছেন। তার এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে প্রশাসনিক দক্ষতা। তিনি ব্যাখ্যা করেন, বাসভবন থেকে কাজ করলে প্রয়োজনীয় কর্মী ও নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। এতে বিশেষ পুলিশ বা নিরাপত্তা সদস্যদেরও কম সময়ের জন্য যুক্ত করতে হয়, যা কর্মীদের ওপর কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি দাপ্তরিক কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন শুধু বসবাসের জায়গা নয়; এটি বৈঠক এবং বিভিন্ন সরকারি দায়িত্ব পালনের জন্যও ব্যবহৃত হয়। সব মিলিয়ে, জাপানের প্রধানমন্ত্রীর এই তেলাপোকা নিয়ে গল্পটি দেশটির রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি বাসভবনকে ঘিরে প্রচলিত ভূতের গল্পের আলোচনায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ কারণেই প্রধানমন্ত্রীর কাছে ভূত দেখার প্রশ্নটি করা হয়েছিল বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: খাবারের উচ্ছিষ্ট ঢাকনাযুক্ত শক্ত ময়লার পাত্রে রাখতেন, প্লাস্টিকের পাত্র ধুয়ে পরিষ্কার করতেন এবং খাবার টেবিলের নিচের মেঝে নিয়মিত পরিষ্কার করতেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পুনর্জন্ম ও জীবনের চক্রের মতো বিষয় নিয়ে তৈরি সেই গল্পের প্রভাব তার মধ্যে এতটাই গভীর যে বড় হওয়ার পরও কোনো পোকামাকড়, এমনকি তেলাপোকাকেও হত্যা করতে তার মন সায় দেয় না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন তিনি সরকারি বাসভবনে তুলনামূলকভাবে বেশি সময় কাটাচ্ছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে আলোচনা হচ্ছিল।