
তারেক রহমানের ভারত সফরকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে যে কূটনৈতিক উত্তাপ ও শব্দের লড়াই দেখা দিয়েছে, তা বেশ আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হলেও ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মনে করেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়—এমন ধারণা সঠিক নয়। একান্ত আলাপচারিতায় তিনি জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অপেক্ষায় রয়েছে দিল্লি এবং তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাতে তারা প্রস্তুত। এই সফরকে গতানুগতিক কূটনৈতিক আয়োজনের বাইরে একটি বিশেষ গুরুত্ব দিতে চায় ভারত। সফর নিয়ে অহেতুক বিতর্ক এড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপরই তিনি জোর দিয়েছেন।
ঢাকায় ৮৭ দিন অবস্থানের অভিজ্ঞতা নিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি এখানকার পরিবেশ ও মানুষের আতিথেয়তায় মুগ্ধ। তার মতে, দুই দেশের ভাষা, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ যাদের সঙ্গেই তিনি কথা বলেছেন, তাদের আন্তরিকতায় তিনি অভিভূত। তিনি মনে করেন, বিদ্যমান সমস্যা বা ভুল বোঝাবুঝির সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই সম্ভব এবং কেউ-ই আলোচনার দরজা বন্ধ করতে চায় না। উল্লেখ্য, দীনেশ ত্রিবেদী পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার প্রাক্তন সংসদ সদস্য এবং রেলমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একজন প্রশিক্ষিত পাইলট এবং নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন হিসেবে পরিচিত।
দুই দেশের সম্পর্কের টানাপড়েন নিরসনে বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের স্পিকার ওম বিড়লা ও পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি যোগ দেন, যা সম্পর্ক উন্নয়নের সংকেত হিসেবে দেখা হয়। তবে ব্রিকস আউটরিচ সেশন ও দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে কিছুটা কূটনৈতিক জটিলতা তৈরি হয়েছিল। দাওয়াতপত্রে প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ না থাকায় ঢাকা আপত্তি জানায়, যদিও ভারত দাবি করেছে তারা দুবার আমন্ত্রণ জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন এবং পরে দিল্লিতে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত আলোচনায় মিলিত হন।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারত কোনো আগাম প্রতিশ্রুতি দিতে রাজি নয়। তবে ওসমান হাদির দুই হত্যাকারীকে ফেরত দেওয়ার বিষয়ে ভারত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। এদিকে, শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন নিয়ে বাংলাদেশ সরকার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, তারা সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতির ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে বলেন, সম্পর্ক স্বাভাবিক নয়—এটি তিনি মানতে রাজি নন। তিনি আরও সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ওয়াকিবহাল কূটনীতিকদের মতে, দুই দেশই সম্পর্ক উষ্ণ করতে আগ্রহী, কিন্তু মাঝখানে অদৃশ্য একটি দেয়াল রয়ে গেছে। এই দেয়াল ভাঙতে না পারলে সুসম্পর্কের বিষয়টি কেবল আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমরা তো মুখিয়ে আছি প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কূটনীতির মারপ্যাঁচে কিছু সময় হারিয়ে গেল তার খোলামেলা বয়ান। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চালচলন, আচার, আচরণেও মেলা মিল খুঁজে পাই। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারপরও যাদের সঙ্গে কথা বলেছি— এতে আমি অভিভূত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এই সময়ের মধ্যেই আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সমস্যা আছে, সংকট আছে, ভুল বোঝাবুঝি আছে— এর সমাধানও আছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই এসবের সুরাহা হতে পারে।