
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি বিদ্রোহীরা সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার হুতিদের নিজস্ব গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ এক টেলিগ্রাম বার্তার মাধ্যমে এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। গোষ্ঠীটির দাবি, তারা সৌদি আরবের আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, কিং খালিদ বিমানঘাঁটি এবং আবহা ও জিজান শহরে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় এই হামলা পরিচালনা করেছে।
এর আগে সোমবার ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছিল যে, জিজান শহরে অবস্থিত আরামকোর তেল স্থাপনায় নতুন করে হামলা হয়েছে। গত মাসেও একই স্থাপনায় হামলার ঘটনায় উৎপাদন কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল। জিজান শহরটি ইয়েমেন সীমান্তের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত হওয়ায় এটি হুতিদের নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। এই হামলার ফলে জ্বালানির বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা ও দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের জুলাই মাস থেকে সৌদি আরবের লোহিত সাগরের বন্দরগুলো অবরোধের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে দফায় দফায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। এর ফলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে; গত এক সপ্তাহে সেখানে মাত্র ৭৭টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ২৮ শতাংশ কম।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে সৌদি আরব ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে হুতিদের বিরুদ্ধে আরব জোটের নেতৃত্ব দিয়ে আসছে। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর ২০২২ সালের এপ্রিলে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। সেই চুক্তির পর গত জুলাই পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের কোনো সামরিক সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক এই হামলার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের সেই স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের ফাটল ধরল।