
সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভ করাকে কেন্দ্র করে হত্যা ও গুমের হুমকি, পরিবারের সদস্যকে গালিগালাজ এবং নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগে বগুড়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি) বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার অ্যাসোসিয়েশন বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি ও সেন্ট্রাল প্রেসক্লাব কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি মোঃ আরমান হোসেন ডলার।
বৃহস্পতিবার (১০ই সেপ্টেম্বর) দেওয়া স্মারকলিপিতে তিনি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।
স্মারকলিপিতে আরমান হোসেন ডলার উল্লেখ করেন, তিনি মানবাধিকার রক্ষা, সামাজিক অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। এর ধারাবাহিকতায় মোহাম্মদ আলী নামে বগুড়া জেলা বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্নীতি ও কথিত অপকর্মের অভিযোগ তুলে গত ২৯ ও ৩১ আগস্ট ফেসবুকে লাইভ করেন তিনি।
এরপর থেকেই তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন আরমান। স্মারকলিপিতে তিনি দাবি করেন, গত ২ সেপ্টেম্বর সকালে তার মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়। এছাড়া বিভিন্ন মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে অভিযুক্ত ব্যক্তির অফিসে গিয়ে দেখা করার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরমান হোসেন ডলারের অভিযোগ, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হলেও হুমকির বিষয়টি অস্বীকার করায় কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। পরে গত ৩ ও ৪ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলীর ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর থেকে একাধিকবার ফোন করা হয় বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্মারকলিপিতে আরও অভিযোগ করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে বগুড়া জেলা বিএনপির সহ-শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, বগুড়া জেলা শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় জাতীয়তাবাদী রেলওয়ে শ্রমিক-কর্মচারী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এতে আরও দাবি করা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে বদলি বাণিজ্য, অবৈধ আয়সহ নানা অনিয়মে জড়িত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তার দুই সন্তানকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সংগঠনের পদ-পদবিতে বসিয়ে তাদের পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের বাণিজ্য করার অভিযোগও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে।
এছাড়া ৫ আগস্টের পর সরকারি রেলওয়ের জায়গায় বিএনপির দলীয় সাইনবোর্ড লাগিয়ে দখল, পরবর্তীতে রেলওয়ে অফিসের মাধ্যমে বিভিন্ন নামে ওই জায়গার লিজ নেওয়া এবং পরে দলীয় সাইনবোর্ড সরিয়ে ব্যক্তি মালিকানার মতো করে দোকান ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য স্মারকলিপিতে উল্লেখ নেই।
স্মারকলিপিতে আরমান হোসেন ডলার বলেন, বাকস্বাধীনতা ও মানুষের কথা বলার অধিকার নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক বিষয়। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে যাতে সত্য ও জনস্বার্থের বিষয় তুলে ধরার অধিকার বাধাগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে সংবাদ প্রকাশ ও মানবাধিকারবিষয়ক কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন। ইতোমধ্যে বিষয়টি বগুড়া সদর থানায় লিখিতভাবে জানিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন করেছেন বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করেন তিনি।
স্মারকলিপিতে তার অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, হুমকির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরের কললিস্ট ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই, ফেসবুক লাইভ ও পোস্টের তথ্য পর্যালোচনা, সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের সদস্যদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে ভয়ভীতি, হয়রানি, হামলা, অপহরণ, হত্যা বা গুমের মতো কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা যাতে না ঘটে, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মানবাধিকারকর্মী আরমান হোসেন ডলার।।