
প্রচণ্ড গরমের মধ্যে গাইবান্ধা জেলা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনের বেলায় বিদ্যুৎ আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবার চলে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও মাত্র ১০ মিনিট বিদ্যুৎ থাকার পরই সংযোগ বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এরপর টানা দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়ছেন বাসিন্দারা।
বিশেষ করে গাইবান্ধা শহরের সরকারপাড়া ও আশপাশের এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের প্রচণ্ড গরমে যখন বিদ্যুতের প্রয়োজন সবচেয়ে বেশি, তখনই বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ আসার পর স্বস্তি পাওয়ার আগেই আবার চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
দিনভর কাজকর্ম শেষে রাতে মানুষ যখন একটু বিশ্রাম নিতে ঘরে ফেরেন, তখনও মিলছে না স্বস্তি। রাতের বিভিন্ন সময়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় প্রচণ্ড গরমে ঘুমাতে পারছেন না অনেকেই। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ঘরের ভেতর অসহনীয় গরমের সৃষ্টি হচ্ছে।
বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিয়ে পরিবারের সদস্যরা বেশি দুশ্চিন্তায় পড়ছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, সারাদিনের পরিশ্রম শেষে রাতে একটু শান্তিতে ঘুমানোর সুযোগটুকুও যেন লোডশেডিং কেড়ে নিচ্ছে। অনেক সময় গভীর রাত পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় মানুষ ঘুমাতে না পেরে জেগে থাকছেন। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বারান্দা, ছাদ কিংবা ঘরের বাইরে অবস্থান করছেন।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতেও। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের অস্বস্তি আরও বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য পরিস্থিতি হয়ে উঠছে আরও কষ্টকর।
বিদ্যুৎ না থাকলে পাখাসহ প্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহারে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। ফলে হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রে রোগী ও স্বজনদের গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দিনের প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। আবার রাতে লোডশেডিং হলে পড়াশোনার পরিবেশ পুরোপুরি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানেও পড়ছে এর নেতিবাচক প্রভাব। কম্পিউটার, প্রিন্টার, ফটোকপি মেশিন, ফ্রিজসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়ছেন। অনলাইনভিত্তিক কাজ করা ব্যক্তি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় কাজের ব্যাঘাতের শিকার হচ্ছেন।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় অনেক বাসাবাড়িতে পানি উত্তোলনেও সমস্যা হচ্ছে। বৈদ্যুতিক মোটর চালাতে না পারায় প্রয়োজনীয় পানি সংগ্রহ করতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও কেন এমন ঘন ঘন ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং হচ্ছে, সে বিষয়ে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য পাচ্ছেন না। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময়সূচি ও কারণ জানার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা গাইবান্ধা শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন। বিশেষ করে হাসপাতাল, আবাসিক এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
তাদের ভাষ্য, দিনের প্রচণ্ড গরমে কয়েক মিনিট পরপর বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এবং রাতে বিশ্রাম ও ঘুমের সময় দীর্ঘ লোডশেডিং—দুইয়ে মিলে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় গাইবান্ধার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করে জনদুর্ভোগ লাঘবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।