
এমিরেটসের এয়ারবাস এ৩৮০-এর বিজনেস ক্লাস ভ্রমণকে বিশ্বের অন্যতম বিলাসবহুল বিমানযাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই কেবিনের প্রশস্ত আসন, সম্পূর্ণ ফ্ল্যাট-বেড সুবিধা, উন্নতমানের খাবার এবং প্রিমিয়াম সেবার পাশাপাশি উড়োজাহাজের ওপরের ডেকে থাকা লাউঞ্জ ও বার যাত্রীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। তবে এই বিলাসিতার জন্য যাত্রীদের বেশ বড় অঙ্কের অর্থ গুনতে হয়। ২০২৬ সালে এমিরেটসের এ৩৮০ বিজনেস ক্লাসের ভাড়া কোনো নির্দিষ্ট মূল্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রুট, ভ্রমণের সময়, বুকিংয়ের তারিখ এবং মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে এই ভাড়া ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়।
সাধারণত দীর্ঘ দূরত্বের রুটে আগাম বুকিং বা ডিসকাউন্ট অফারের ক্ষেত্রে একমুখী বিজনেস ক্লাস টিকিটের দাম প্রায় ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার থেকে শুরু হতে পারে। তবে ব্যস্ত মৌসুমে একই টিকিটের দাম ৬ হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। দুবাই থেকে লন্ডন, নিউইয়র্ক বা সিডনির মতো জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক রুটে রিটার্ন টিকিটের দাম অনেক সময় ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার ডলার পর্যন্ত পৌঁছে যায়। শেষ মুহূর্তে টিকিট কাটলে বা ছুটির মৌসুমে এই খরচ আরও বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। তবে সঠিক সময়ে বুকিং ও অফার পর্যবেক্ষণ করলে কয়েক হাজার ডলার সাশ্রয় করা সম্ভব।
এমিরেটসের প্রিমিয়াম কেবিনগুলোর মধ্যে বিজনেস ক্লাসের অবস্থান প্রিমিয়াম ইকোনমির ওপরে এবং ফার্স্ট ক্লাসের নিচে। এ৩৮০ উড়োজাহাজে বিজনেস ক্লাস সাধারণত ওপরের ডেকে অবস্থিত, যেখানে প্রতিটি যাত্রীর সরাসরি আইল অ্যাকসেস থাকে। এছাড়া এমিরেটসের বোয়িং ৭৭৭ উড়োজাহাজেও বিজনেস ক্লাস সুবিধা রয়েছে। তবে নতুন ৭৭৭ কেবিনে ১-২-১ আসন বিন্যাস থাকলেও কিছু পুরোনো উড়োজাহাজে ২-৩-২ বিন্যাস থাকায় এ৩৮০-এর অভিজ্ঞতা তুলনামূলকভাবে বেশি আকর্ষণীয় ও আরামদায়ক বলে বিবেচিত হয়।
ভ্রমণ খরচ কমাতে যাত্রীরা আগেভাগে বুকিং, ভাড়ার অফার পর্যবেক্ষণ এবং ভ্রমণের তারিখে নমনীয়তা বজায় রাখতে পারেন। এছাড়া এমিরেটসের স্কাইওয়ার্ডস (Skywards) মাইল ব্যবহার করেও বিজনেস ক্লাসের টিকিট বা আপগ্রেডের সুযোগ গ্রহণ করা যায়। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালে এমিরেটস এ৩৮০ বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ নিঃসন্দেহে ব্যয়বহুল হলেও, সঠিক পরিকল্পনা ও উপযুক্ত অফার কাজে লাগাতে পারলে একই আসনের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব।