
সাভারের আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসার তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে এক নারী, এক পুরুষ এবং সদ্য ভূমিষ্ঠ এক নবজাতকের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার ভোরে হাজী হযরত আলীর মালিকানাধীন চারতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার ওই কক্ষ থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, কক্ষটি সবসময় তালাবদ্ধ থাকত এবং নিহতরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। গতরাতে ঘর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে দরজা খুলে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। পুরুষের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যাওয়ায় এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জামগড়া পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) আবু তালেব জানান, ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে তারা সেখানে উপস্থিত হন। সিআইডির ফরেনসিক টিমও ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মৃত নারী গর্ভবতী ছিলেন এবং ধারণা করা হচ্ছে প্রসবকালীন জটিলতায় নবজাতকটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মারা যায়।
আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার ও এসআই রাসেল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এক মাস আগে তারা বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। নির্মম এই ঘটনার নেপথ্যে হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহগুলো শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ এখন নিহতদের প্রকৃত পরিচয় এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।