
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাহক সেবা বিভাগের কর্মকর্তা এম খানমের বিরুদ্ধে শিক্ষাগত সনদ জালিয়াতি, চাকরিতে পদায়ন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের একটি পক্ষ এই অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, এম খানম ১৯৯৯ সালে ট্রাফিক অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে বিমানে যোগদান করেন। সে সময় শেখ হাসিনার তৎকালীন উপদেষ্টা এস এ মালেকের সুপারিশে তিনি নিয়োগ পেয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে, যদিও এই তথ্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগের সময় তার দাখিল করা শিক্ষাগত সনদে জন্মতারিখ ঘষামাজা এবং হাতের লেখায় অসঙ্গতি রয়েছে।
সনদ সংক্রান্ত অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৯৮৫ সালে ফরিদপুরের একটি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৯১ সালে বান্দরবানের লামা কলেজ থেকে এইচএসসি পাসের তথ্য দিয়েছেন তিনি। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, ১৯৮৫ সালে এসএসসি পাসের পর ১৯৯১ সালে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়টি কীভাবে সম্ভব হলো। এছাড়া তার ডিগ্রি সনদেও ঘষামাজার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
চাকরিজীবনের শুরুতে ট্রাফিক শাখায় দায়িত্ব পালন করলেও পরবর্তীতে তিনি দীর্ঘ সময় হোটেল বিল সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত ছিলেন। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সহকারী ব্যবস্থাপক পদে পদোন্নতির পর তার বদলি ও আর্থিক বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনিক জটিলতার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে পুনরায় গ্রাহক সেবা বিভাগে ফিরে আসার ক্ষেত্রেও নিয়ম মানা হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে আটক করার দিন এম খানমের ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সেদিন নির্ধারিত দায়িত্বের বাইরে টার্মিনালে তার উপস্থিতি এবং স্বামীর সঙ্গে তার কর্মকাণ্ড ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে নানা গুঞ্জন রয়েছে। তবে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ ছাড়া এসব অভিযোগ সত্য হিসেবে গ্রহণ করা সমীচীন নয়।
অভিযোগকারীদের দাবি, এম খানমের জন্মতারিখ, পরিচয়পত্র এবং তার স্বামীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘোষণাপত্রেও অসঙ্গতি রয়েছে। এছাড়া বিমানবন্দরের স্পর্শকাতর তথ্য পাচার এবং প্রভাব খাটিয়ে সহকর্মীদের হয়রানির অভিযোগও তোলা হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে গোয়েন্দা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে তদন্তের দাবি উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা বিমানের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি। আবার অভিযোগ অসত্য হলে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সম্মান রক্ষা করা প্রয়োজন। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: একই সনদে কিছু সংশোধন ও লেখার অসঙ্গতি রয়েছে বলেও তারা দাবি করেছেন।