
গেল ২০সেপ্টেম্বর ২০২৪ শুক্রবার বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের ভাটরা(আড়াপাড়া)গ্রামে আড়ম্বরপূর্ণ বিয়ের আয়োজন সড়ক দুর্ঘটনায় মূহুর্তেই পরিনত হয়েছে শোকসভায়।
ভাটরা কৃষক সেবা কেন্দ্রের পূর্বপাশে বাস করেন হাসের খামারী জলিল মিয়া ও তার স্ত্রী ফেন্সি।তার একমাত্র বিবাহযোগ্য কন্যা জেনিফার ইসলামি শরিয়াত মোতাবেক বিবাহ সম্পন্ন হয়।পারিবারিক আয়োজনে মেয়ের বিবাহ সম্পন্ন হয় পার্শ্ববর্তী চৌদিঘী গ্রামের পশ্চিম পাড়া নিবাসী শামছুল হকের ছেলে সোহাগের সাথে।বিয়ের সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষে যথারিতি সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়।কিন্তু এর পরেই ঘটে সেই পৈশাচিক দূর্ঘটনা।
বিয়েতে বরপক্ষের হয়ে দাওয়াতে আসেন ভাগশিমলা গ্রামের শওকত আলীর ছেলে সদ্য সৌদি আরব প্রবাসী নাইমুল ইসলাম পলকের সহোদর ভাইদ্বয় নয়ন,নাহিদ, পলকের স্ত্রী আখি মুনি ও পলক-আখি দম্পতির ৩বছর বয়সী সন্তান আয়ান।
বিয়ের আনুষ্ঠানিক খাওয়া-দাওয়া শেষে প্রচন্ড গরমে সবাই যখন হাসফাস করছিল,তখন মায়ের চোখ আড়াল করে পাশেই রাস্তায় উঠে যান ৫বছরের শিশু আয়ান।সেই মূহুর্তে তেঘর বাজার থেকে শিমলাগামী মালবোঝাই এক অটোভ্যানের সাথে ধাক্কা খান শিশুটি।ঘটনাস্থলে উপস্থিত পলকের ছোটভাই নয়ন জানায়,”আমরা খাওয়া দাওয়া শেষে বাড়িতে যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম।এরই মধ্যে একটা অটোভ্যান আমার ভাতিজারকে ধাক্কা মেরে চাকায় পৃষ্ঠ করে চলে যায়।আমরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে অবস্থার অবনতি দেখে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালের দিকে নিয়ে যাই।কিন্তু পথিমধ্যে মারা যায়।”
এদিকে সপ্তাহ খানেক আগে জীবিকার তাগিদে ২০দিন আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছেন নিহত আয়ানের বাবা নাইমুল ইসলাম পলক।ছেলের মৃত্যুর ঘটনা শুনে পাগলপ্রায় বাবা।নিহত আয়ানকে বাদ এশা তাদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পলকের পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।এলাকা জুড়ে শোকের মাতম বিরাজ করছে।এ ঘটনায় থানায় কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।