পলাশবাড়ীতে সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক কে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

ওমর ফারুক, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৫নং মহদীপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এক সৈনিককে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। আর সেই অভিযোগ উঠেছে ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় শ্যাম্বলের বাজার এবং মহিপুর বাজারের ফাকা জায়গার তালগাছের গোড়া নামক জায়গায় এই ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ইটভাটা ব্যবসায়ী মহদীপুর ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আমিনুল ইসলামের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক নজরুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটার মালিকানাকে কেন্দ্র করে বিবাদ চলে আসছিলো। এই ঘটনার রেশ ধরে গত মঙ্গলবার আমিনুল মেম্বারসহ ৬/৭ জনের একটি সন্ত্রাসীদল নজরুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। নজরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান- ”ভাটা সংক্রান্ত বিষয়ে আমাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেছেন আমিনুর মেম্বার। তিনি অভিযোগ করেন, ভাটাটি তার নিজের অথচ আমিনুল জোর জবরদস্তি করে ভাটা দখল করে আছে।” সাবেক এই সেনা সদস্য তাকে মারধর করার বিচার এবং তার নিজের ভাটাটি ফেরত পেতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতা চেয়েছেন। এই ব্যাপারে মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি সাবেক মেম্বার আমিনুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান- “আমার সাথে ভাটা ও অর্থনৈতিক বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। স্বাভাবিক ভাবেই তাকে যে কেউ মারলে তার দায় আমার উপর আসতেই পারে। তবে তাকে আমি বা আমার কোনো লোক মারধর করে নাই। সেইদিন আমি বাড়ীর বাইরে যাইনি। আমার বাড়ীতেই ছিলাম।” পলাশবাড়ী ও এর আশেপাশের এলাকায় আমিনুল মেম্বারের একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে ভিশন টিভির অনুসন্ধানে। আমিনুল মেম্বারের দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন এরকম দুইজন ব্যক্তির সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাদের মধ্য থেকে লোকমান হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, “আমি তাকে ১৮ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। অনেক দেন দরবার করার পর সে আমাকে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেয়। বাকি আরো ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা তার কাছে পাই। কিন্তু কিছুতেই সে আমার পাওনা টাকা দিচ্ছে না। অন্য আর এক ভুক্তভোগী ফারুক হোসেনের সাতে কথা হলে তিনি জানান, “ আমাকে ইট দেয়ার কথা বলে আমিনুল মেম্বার আমার নিকট থেকে ১৭ লক্ষ টাকা নেয় ২০১৯ সালে। এখন পর্যন্ত আমাকে সেই টাকা দেয়নি সে। তিনি আরো জানান, আমি আমার টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের সহযোগীতা চাই।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয় সংবাদ

​বগুড়ার নন্দীগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় গৃহবধূসহ নিহত ২

Verified by MonsterInsights

পলাশবাড়ীতে সাবেক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক কে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ

আপলোডের সময় : 12:58:08 pm, Thursday, 11 January 2024

ওমর ফারুক, গাইবান্ধা প্রতিনিধিঃ গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার ৫নং মহদীপুর ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত এক সৈনিককে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে। আর সেই অভিযোগ উঠেছে ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় শ্যাম্বলের বাজার এবং মহিপুর বাজারের ফাকা জায়গার তালগাছের গোড়া নামক জায়গায় এই ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ইটভাটা ব্যবসায়ী মহদীপুর ইউনিয়ন ২ নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আমিনুল ইসলামের সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক নজরুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে ইটভাটার মালিকানাকে কেন্দ্র করে বিবাদ চলে আসছিলো। এই ঘটনার রেশ ধরে গত মঙ্গলবার আমিনুল মেম্বারসহ ৬/৭ জনের একটি সন্ত্রাসীদল নজরুল ইসলামকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। নজরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান- ”ভাটা সংক্রান্ত বিষয়ে আমাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধর করেছেন আমিনুর মেম্বার। তিনি অভিযোগ করেন, ভাটাটি তার নিজের অথচ আমিনুল জোর জবরদস্তি করে ভাটা দখল করে আছে।” সাবেক এই সেনা সদস্য তাকে মারধর করার বিচার এবং তার নিজের ভাটাটি ফেরত পেতে স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগীতা চেয়েছেন। এই ব্যাপারে মূল অভিযুক্ত ব্যক্তি সাবেক মেম্বার আমিনুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান- “আমার সাথে ভাটা ও অর্থনৈতিক বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিলো। স্বাভাবিক ভাবেই তাকে যে কেউ মারলে তার দায় আমার উপর আসতেই পারে। তবে তাকে আমি বা আমার কোনো লোক মারধর করে নাই। সেইদিন আমি বাড়ীর বাইরে যাইনি। আমার বাড়ীতেই ছিলাম।” পলাশবাড়ী ও এর আশেপাশের এলাকায় আমিনুল মেম্বারের একাধিক আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটনার তথ্য উঠে এসেছে ভিশন টিভির অনুসন্ধানে। আমিনুল মেম্বারের দ্বারা প্রতারিত হয়েছেন এরকম দুইজন ব্যক্তির সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তাদের মধ্য থেকে লোকমান হোসেন নামের এক ব্যক্তি জানান, “আমি তাকে ১৮ লক্ষ টাকা দিয়েছিলাম। অনেক দেন দরবার করার পর সে আমাকে ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দেয়। বাকি আরো ১০ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা তার কাছে পাই। কিন্তু কিছুতেই সে আমার পাওনা টাকা দিচ্ছে না। অন্য আর এক ভুক্তভোগী ফারুক হোসেনের সাতে কথা হলে তিনি জানান, “ আমাকে ইট দেয়ার কথা বলে আমিনুল মেম্বার আমার নিকট থেকে ১৭ লক্ষ টাকা নেয় ২০১৯ সালে। এখন পর্যন্ত আমাকে সেই টাকা দেয়নি সে। তিনি আরো জানান, আমি আমার টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের সহযোগীতা চাই।”