
কাহালু(বগুড়া)প্রতিনিধিঃ দলিলের প্রথম পক্ষ দেলোয়ার হোসেন দুলাল বগুড়ার কাহালু সাব–রেজিষ্ট্রি অফিসের সাব–রেজিস্ট্রার,দলিল লেখক,নকলনবিশ সানোয়ার ও আব্দুর রশিদ এর সাথে যোগসাজস করে স্ত্রীকে বোন এবং প্রতিবেশী এক ব্যক্তিকে ভাই সাজিয়ে মোটা অংকের দূর্নীতির মাধ্যমে প্রতারণা করে বিগত ১৬/০৭/২০২৪ ইং তারিখে ৩৩৭৫ নং একটি বন্টন দলিল রেজিষ্ট্রি করে বাবার সম্পত্তি হতে ছোট ভাই কামাল হোসেন ও বোন শাহনাজ পারভীনকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয় । সাব–রেজিষ্ট্রি অফিসে দলিলের নকলের (সার্টিফাই কপির) জন্য বাব বার আবেদন করা হলেও তালবাহানা করে তৃতীয় ও চতুর্থ পক্ষকে দলিলের নকল সরবরাহ করা হয়নি । ফলে আইনের আশ্রয়ও নিতে পাছেনা ভূক্তভূগীরা।
কাহালু উপজেলার মালঞ্চা ইউনিয়নের মাটিহাস গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে কামাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন- মাটিহাস মৌজার জে এল নং ১৩৬, আর এস ৮৯, খতিয়ান ভূক্ত ৫একর ১০ শতক জমি আমার দাদীর নামে রেকর্ড ভূক্ত। আমার দাদী আমেনা খাতুন মুত্যুবরণ করলে আমার পিতা আলতাফ আলী ওয়ারিশ হন, তিনি ভোগ দখল কালে অধিকাংশ জমি বিক্রয় ও দান পত্র রেজিষ্ট্রি করে যান। তার মৃত্যুর পর অবশিষ্ট ১ একর ৯ শতক সম্পত্তি থাকে,যাহা আমরা ৩ ভাই ১ বোন ফারায়েজ মোতাবেক বন্টন করে ভোগ দখল করতে থাকি। হঠাৎ কিছুদিন পূর্বে আমার ভাই দেলোয়ার হোসেন দুলাল ও আফজাল হোসেন আমার রেজিষ্ট্রিকৃত দখলীয় জমি জোর পূর্বক দখলের চেষ্টা করে। আমি তাদের বাঁধা নিষেধ করিলে একটি ভূয়া বন্টন নামা দলিলের নকল (সাটিফাই) কপি দেখান। যার নং ৩৩৭৫, তাং ১৬.০৭.২০২৪ ইং উক্ত দলিল দেখে আমি ও আমার বোন অবাক হই এবং আমরা কোন বন্টন দলিল রেজিষ্ট্রি করিনি মর্মে প্রতিবাদ করলে তারা একটি দলিলের নকলের ফটো কপি সরবরাহ করে। ঐ নকলের ফটো কপি মোতাবেক কাহালু সাব–রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে মূল দলিল তল্লাসী করে বের করে দেখি সেখানে আমার ছবির স্থলে প্রতিবেশী সামছুল হক প্রাং এবং আমার বোনের ছবির স্থলে দুলালের স্ত্রী রেবেকার ছবি লাগানো। আমি সঙ্গে সঙ্গে এর প্রতিবাদ করলে সাব–রেজিস্ট্রার ছোলাইমান আলী, নকলনবিশ সানোয়ার ও আব্দুর রশিদ, কেরানীসহ আমাকে হুমকীÑধমকী দিয়ে অফিস থেকে বের করে দেন। আমি নিয়ম অনুযায়ী নকল তোলার জন্য আবেদন করলেও তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।
কামাল হোসেনের দাবী দলিল টি সম্পূর্ণ ভূয়া এবং যোগসাজসী প্রতারণা মূলক আমরা আমাদের পিতার মৃত্যুর পর আমাদের কোন প্রকার বন্টণ দলিল হয়নি আমি ও আমার বোন শাহনাজ পারভীন কোন বন্টণ দলিলে স্বাক্ষর করিনি। ধৃর্ত দেলোয়ার হোসেন দুলাল তার স্ত্রীকে বোন ও এক প্রতিবেশীকে ভাই সাজিয়ে,স্ব–ঘোষিত ছাত্রলীগের ক্যাডার পরিচয় দানকারী সাব রেজিস্ট্রার ছোলাইমান আলী , দলিল লেখক শাহজাহান আলী মন্ডল (সনদ নং ৫০)এবং অফিসের প্রধান কেরনীক রহিমা খাতুন মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ১ একর ৪২ শতক জমির একটি ভূয়া বন্টণ নামা সৃষ্টি করেছে। আমি ভুয়া দলিল সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি,কিন্তু (সাটিফাই কপি) দলিলের নকল না পাওযায় মামলায় বিলম্ব হচ্ছে।
অভিযুক্তদের সরবরাহকৃত দলিলের ফটোকপি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে দলিলে প্রথম ও দ্বিতীয় পক্ষের নাম ঠিকানার পর জাতীয় পরিচয় পত্রে ( আইডি) নম্বার যথারিতি লিপিবদ্ধ করা হলেও ভূয়া ব্যক্তির ছবি ব্যবহারের কারণেই তৃতীয় ও চতুর্থ পক্ষের পরিচয় পত্র (আইডি) নম্বার লিখা হয়নি। অথচ ঐ দলিলে দেখা যায়, সনাক্তকারী যিনি তিনিই দলিল লেখক এবং সাক্ষী যাহা সম্পূর্ণ আইন বহিভুত। আরো মজার ব্যাপার আমার পিতা জীবিত অবস্থায় আমার উক্ত ভাইদ্বয় তাদের ভাগের সম্পত্তি বাবার নিকট হতে জোর করে বিক্রয় করে নেন। তখন আমাদের বাবা আমার ও আমার বোনের প্রাপ্য অংশ আমাদের নামে রেজিষ্ট্রি দলিল করে দেন। সেই সম্পত্তি আতœসাতের উদেশ্যেই এই প্রতারণা মুলক দলিল সৃষ্টি করা হয়েছে।
বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য কাহালু সাব–রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে সাব–রেজিস্ট্রার মোঃ ছোলায়মান আলীর নিকট মূল দলিল দেখতে চাওয়া হলে তিনি প্রধান কেরানী নাই আগামী কাল আসেন দেখিয়ে দিব বলে বিদায় করেন। দ্বিতীয় দিন যাওয়া হলে তিনি দলিল নম্বার নিয়েই বলেন দলিল দেখার কোন বিধান নাই নম্বারটি আমার নিকট থাক একদিন পরে আসেন বলেন জানান। পরের দিন অফিস বন্ধ থাকায় এক সপ্তাহ পর আবার তৃতীয়বার অফিসে যাওয়া হলে,সাব–রেজিষ্ট্রার বলেন বিষয়টি উভয় পক্ষদের নিয়ে মিট–মাট করা হয়েছে, দলিল দেখার প্রয়োজন নাই। কি ভাবে মিট–মাট হলো জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন দলিল লেখক শাহজাহান আলী মন্ডলের মাধ্যমে দলিলের পক্ষদের অফিসে ডাকা হয়েছিলসে এখানেই উভয়ের মধ্যে মিট–মাট করা হয়েছে। ভবিষৎতে এই ব্যাপার নিয়ে আর অফিসে আসবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন। অথচ অভিযোগকারী কামাল হোসেন ও শাহনাজ পারভীন এবিষয়ে কিছুই জানেন না বলে প্রতিবেদক কে জানান। (চলবে)