
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধিঃ অনিয়ম-দূর্নীতি ও আর্থিক লেনদেন এবং স্বেচ্ছা চারিতার মাধ্যমে “অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর, ল্যাব এসিস্ট্যান্ট, অফিস সহায়ক, আয়া এবং পরিচ্ছন্নতা কর্মী” মোট ৫টি পদে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জহাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গত বছর ০২/১২/২০২৩ ইং তারিখে গোঁপনে নিয়োগ দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন অত্র বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির দাতা সদস্য আলহাজ্ব মোঃ রেজাউল ইসলাম। গত রোববার (১১ ফেব্রুয়ারি) মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন ওই দাতা সদস্য। অনুলিপিও দিয়েছেন জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে। এর আগেও তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অনুলিপির কপি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকেও দেন তিনি। স্থানীয় সংসদ সদস্য বিষয়টি দেখার জন্য মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে প্রেরন করেন। কিন্তু কোন প্রতিকার না পেয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চল রংপুর উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উক্ত দাতা সদস্যকে ভুলভাল বুঝিয়ে রেজুলেশনে সবার মত তাঁর স্বাক্ষর নেয় প্রধান শিক্ষক। পরবর্তীকালে তিনি জানতে পারেন রেজুলেশন হয়েছে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে। নিয়োগ সম্পূর্ণ হওয়ার বিষয়টিও তিনি জানেন না। গত বছরের ১৮ অক্টোবর মীরগঞ্জ হাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ৫টি কর্মচারী পদে নিয়োগের জন্য জাতীয় দৈনিক আমাদের বার্তা ও স্থানীয় দৈনিক নীলফামারী বার্তা পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২১ অনুযায়ী সরকারি বিধি মোতাবেক মীরগঞ্জ হাট বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের নিম্নবর্ণিত পদে নিয়োগ করা হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দিন হতে ১৫ দিনের মধ্যে ৫শত টাকার ব্যাংকড্রাফ অথবা পোস্টাল অর্ডার এবং যাবতীয় কাগজপত্রাদিসহ প্রধান শিক্ষক বরাবর আবেদন করতে বলা হয়। কিন্তু সরকারি বিধি মোতাবেক আবেদন করার কথা থাকলেও আবেদন গুলোতে ত্রুটি আছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ওই দাতা সদস্য আরো অভিযোগ করেন যে, নিয়োগ কমিটিতে থাকা ডিজির প্রতিনিধিসহ অন্যান্য ব্যক্তিরা অর্থের লোভে পড়ে ত্রুটিপূর্ণ কাগজপত্র যাচাই-বাছাই না করে তাঁরা নিয়োগ সম্পন্ন করেন।
সরেজমিনে গেলে এরকম অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ৮ মাস পূর্বে মার্চ মাসের ১২/১৩/১৪/১৫ এবং ১৬ তারিখের পোস্টাল অর্ডার যা বিধিসম্মত নয় । এই পোস্টাল অর্ডারের ত্রুটির কথা প্রধান শিক্ষককে বললে তিনি বলেন, এটা নিয়মের মধ্যেই পড়ে সমস্যা নেই। অন্য কাগজপত্রাদী দেখতে চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। পুরো তথ্যের জন্য তথ্য অধিকার ফরমে প্রধান শিক্ষক বরাবর আবেদন জমা দেয়া হয়। এই ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে বিভিন্ন প্রধান শিক্ষকদের সাথে কথা বললেই জানা যায় এ নিয়োগটি অবৈধ, এরকম প্রমান পেলে নিয়োগ বাতিল হতে পারে।
অত্র প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মোশফেকুর রহমান লিটন বলেন, এবিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবোনা, আপনারা প্রধান শিক্ষকেরনসাথে কথা বলেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চঞ্চল কুমার ভৌমিক জানান, নিয়োগ বিধিসম্মত হয়েছে। আমরাতো যাচাই-বাছাই করিনা তাছাড়া যিনি অভিযোগ করেছে তিনি সকল রেজুলেশনে স্বাক্ষর করেছেন। জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হাফিজুর রহমান বলেন, নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয় গুলো দেখেশুনে আমরা প্রতিনিধি নিয়োগ দেই। তারপরও যদি কোন সমস্যা থাকে, অভিযোগ হয়েছে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার জি আর সারোয়ার বলেন, এবিষয়ের অভিযোগ এখনো পাইনি, পেলে দেখা যাবে।মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চল রংপুরের উপ-পরিচালক মোঃ শফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি দেখবো, তারপরও অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।