
গাইবান্ধা সদর উপজেলার দক্ষিণ মাগোয়া (বড় বাড়ি) এলাকায় বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের অভিযোগে থানায় এজাহার দায়ের করেছেন এক ব্যক্তি। ভুক্তভোগী মোঃ সেকেন্দার আলী (৬৭) এ ঘটনায় গাইবান্ধা সদর থানা-তে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলা-র দক্ষিণ মাগোয়া (বড় বাড়ি) গ্রামের বাসিন্দা সেকেন্দার আলী দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে হেবা ঘোষণার মাধ্যমে প্রাপ্ত জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ করে ভোগদখল করে আসছেন। তবে একই এলাকার কয়েকজনের সঙ্গে জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছে। এ বিষয়ে পূর্বে আদালতে মামলা হলে আদালত তার পক্ষে রায় দেন বলেও তিনি এজাহারে উল্লেখ করেছেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, আদালতের রায় থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা বিভিন্ন সময় তার বসতবাড়ির জায়গা দখলের চেষ্টা করে আসছিল। ২০২২ সালের ৩ আগস্ট রাতে তাকে মারধর করে বাড়িতে তালাবদ্ধ করার ঘটনাও ঘটে। বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে জানানো হলেও অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। পরে জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবারসহ ঢাকায় গিয়ে বসবাস শুরু করেন।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ৬ নভেম্বর ২০২৩ বিকেল প্রায় ৫টার দিকে তিনি ঢাকায় অবস্থান করার সুযোগে অভিযুক্তরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে তার বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা দুটি টিনের চৌচালা ঘরের বেড়া খুলে নেয় এবং ঘরের ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল লুটপাট করে।
লুট হওয়া মালামালের মধ্যে রয়েছে একটি ফ্রিজ, তিনটি খাট, একটি কাঠের আলমিরা, একটি শোকেস, একটি এলইডি টিভি, একটি কম্পিউটার, ২২টি আরএফএল চেয়ার, নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালঙ্কারসহ বিভিন্ন গৃহস্থালী সামগ্রী। এছাড়া প্রায় দুই হাজার ইট, পাঁচ বস্তা সিমেন্ট ও অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার বেশি মালামাল লুটপাট হয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী।
ঘটনার খবর পেয়ে গত ১৫ নভেম্বর ভোরে তিনি ঢাকা থেকে নিজ গ্রামে এসে স্থানীয়দের কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পারেন। পরে স্থানীয়ভাবে মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়ে থানায় এজাহার দায়ের করেন।
এ ঘটনায় মতিয়ার রহমানসহ মোট ১৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী সেকেন্দার আলী বলেন, তার বসতভিটার ১১ শতক জমি জোরপূর্বক দখলের উদ্দেশ্যেই এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানা-র পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।